• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

দাও ফিরিয়ে সেই অরণ্য-দিনাজপুরের বড়মাঠ ফিরে পাক তার সবুজ প্রাণ

খাদেমুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক / ৪০ জন দেখেছেন
আপডেট : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান—স্থানীয়ভাবে পরিচিত বড়মাঠ—সামরিক ক্যাম্প ও অস্থায়ী সামরিক ব্যবহার থেকে মুক্ত করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও সংরক্ষণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ঐতিহাসিক বড়মাঠ রক্ষা কমিটি।

৭ জুলাই ২০২৬ জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তিনি তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর জন্য গ্রহণ করেন। ওই স্মারকলিপিতে বড়মাঠকে দিনাজপুরবাসীর ঐতিহ্য, স্মৃতি, খেলাধুলা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তা জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়।

“দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর”—কবির সেই চিরন্তন আকুতি যেন আজ নতুন করে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বড়মাঠের বুক থেকে। সভ্যতার নামে যখন একের পর এক সবুজ হারিয়ে যাচ্ছে, উন্মুক্ত প্রান্তর সংকুচিত হচ্ছে, তখন একটি মাঠ রক্ষা করা শুধু অতীতকে সংরক্ষণ নয়—আগামী প্রজন্মের জন্য একটু মুক্ত আকাশ, নির্মল বাতাস ও সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়ার অঙ্গীকার।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৯ সালে বড়মাঠে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৮ দশমিক ৫০ একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং জমির নিয়ন্ত্রণ বেসামরিক প্রশাসনের হাতে থাকার কথা বলা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও বড়মাঠের জমি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য বর্তমান অবস্থায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

স্মারকলিপিতে ঐতিহাসিক বড়মাঠ থেকে সামরিক ক্যাম্প ও অস্থায়ী সামরিক ব্যবহার প্রত্যাহার, ১৯৮৯ সালের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং ২০০৩ সালের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
এ সময় ঐতিহাসিক বড়মাঠ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ ও সদস্য সচিব রেহাতুল ইসলাম খোকা স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য রেজাউর রহমান রেজু, গোলাম নবী দুলাল, মেহেরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মাসুদ রানা, মো. শামীম নুরুন্নবী ও রবিউল ইসলাম খোকাসহ অন্যরা।

কমিটির নেতারা বলেন, বড়মাঠ রক্ষার আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থরক্ষার আন্দোলন নয়; এটি দিনাজপুরবাসীর অধিকার, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসম্পদ রক্ষার আন্দোলন।

তাদের ভাষায়, বড়মাঠ শুধু একটি মাঠ নয়—এটি একটি শহরের স্মৃতি, মানুষের শৈশব, নাগরিকের মুক্ত বাতাস এবং দিনাজপুরের প্রাণ।

সভ্যতার অগ্রযাত্রা থামানোর দাবি নয়, বরং উন্নয়নের সঙ্গে প্রকৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। কারণ বড়মাঠ ফিরিয়ে দেওয়া মানে শুধু একটি মাঠ ফিরিয়ে দেওয়া নয়—ফিরিয়ে দেওয়া মানুষের শৈশব, খেলাধুলার অধিকার, মুক্ত আকাশ এবং একটি শহরের সবুজ প্রাণ।

দাও ফিরিয়ে সেই অরণ্য—
লও না কেড়ে মানুষের শেষ সবুজ আশ্রয়।
দিনাজপুরের বড়মাঠ বেঁচে থাকুক মানুষের জন্য,
বেঁচে থাকুক সবুজ, বেঁচে থাকুক আগামী পৃথিবী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd