• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ

সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ভুমিদস্যুর বিরুদ্ধে আদালতে লড়ছে গ্রামবাসী

আব্দুর রাজ্জাক / ১৮ জন দেখেছেন
আপডেট : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
ছবি: পল্লীবার্তা

নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৭নং আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের বড় বাউল ও গালতৈড় গ্রামবাসী। সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কবরস্থান কমিটিসহ গ্রামবাসী। কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে নিরব ভূমিকায় কেন?

সরেজমিনে গেলে বড় বাউল, গালতৈড় গ্রামের জনসাধারণ বলেন, বড় বাউল মৌজায় একটি পুকুর ছোট জিনাহার নামে প্রায় ১৫ একর জমির পাহাড়ীসহ রয়েছে। উক্ত পুকুরটির চতুর্দিকে বিশাল বড় কবরস্থান রয়েছে। যেখানে হাজার হাজার কবর আছে।

গ্রামবাসীর বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, নালিশী জমির প্রকৃত মালিক তৎকালিন জমিদার শরবিন্দু নারায়ন রায় ও পুনেন্দ নারায়ন রায় পিং রাধা গোবিন্দ রায় সাহেব সদর দিনাজপুর নামে সিএস খতিয়ান ২৯ কোর্টস অব ওয়ার্ড নামে প্রকাশিত হয়। যা সর্বসাধারণের ব্যবহার্য হিসেবে লিপিবদ্ধ।

পরবর্তিতে উক্ত নালিশী জমি ১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ ও অধিগ্রহণ আইনের আওতায় আপনা আপনি সরকারের ১নং খাস এস এ রেকর্ড চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়। নালিশী জমির এস এ-১ খতিয়ানে ৪৬৪, ২১১০ ৪৬৭ পুকুর ৪৬৯ দাগগুলিতে সুদীর্ঘকাল হতে ২টি গ্রামের মৃত মানুষের দাফন কাফন (কবর) দিয়ে আসছেন। পুকুরের পানিতে গবাদী পশুর গোসল, চাষাবাদের কাজে সর্বসাধারণ ব্যবহার করে আসছেন। এবং বাংলাদেশ জরিপ দল উক্ত এলাকায় জরিপে আসলে তাদের কাছে রক্ষিত কাগজদৃষ্টে ১নং খতিয়ান ও কবরস্থান মর্মে মাঠ পর্চা প্রদান করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য চিরিরবন্দর আউলিয়াপুকুর ও উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে মোটা অংকের বিনিময়ে এস এ-১ খতিয়ানভূক্ত সম্পত্তির যাবতীয় কাগজপত্র গায়েব করে। চিরিরবন্দর ভূমি অফিস সংলগ্ন জনৈক মৃত অখিল উদ্দিন এর স্ত্রী তৈয়বা খাতুন নামে একটি ভূয়া বানোয়াট এস এ-২৭ খতিয়ান তুলে তাদের নামে খাজনা-খারিজ, যাবতীয় কাগজ তৈরী করেন। পরবর্তীতে উক্ত বড় বাউল গ্রামের বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে ভূমিদস্যু মো. ময়েন উদ্দীন এর নামে উক্ত পুুকুরের কবলা দলিল করে নেন। উক্ত সরকারি সম্পদ দখলের পায়তারা করেন। এই ব্যক্তি রামপুর মৌজায় বড় জিনাহার নামে প্রায় ৩০ একর জমি সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে দখলে নেন। যা লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারকে রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এলাকাবাসী উক্ত ভূমিদস্যুর কর্মকান্ডে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য গত ২০০৫ সনে ছোট জিনাহার পুকুর ও কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষন কমিটির মাধ্যমে যুগ্ম জেলা জজ আদালত-১ সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিনিধিত্ব মামলা দায়ের করেন। যার নং-২৭/২০০৫। পরবর্তীতে নতুন নং-সহকারি সিভিল জজ আদালত চিরিরবন্দর, মামলা নং-২২৯/২১ অন্য ৫৯৩/২৬ বিচারাধীন অবস্থায় আছে। মামলাটি দায়েরের পর হতে বিজ্ঞ আদালত এই সরকারি সম্পদ কি অবস্থায় আছে মর্মে জানার জন্য এস এফ চিরিরবন্দর উপজেলা ভূমি অফিসে প্রেরণ করেন। উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তপূর্বক উক্ত নালিশী জমিটি সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান মর্মে একটি পরিপত্র (যার নং ভূমি অফিস (ছয়) ০১/এস এফ/০৯ চিরির/২৯৭, তারিখ: ১১/০৬/২০০৯ তে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও জিপি এর যৌথ স্বাক্ষরে ২৭ খতিয়ানটি বানোয়াট ও ভূয়া মর্মে রিপোর্টে উল্লেখ করেন। এবং বিজ্ঞ কৌশলীর মাধ্যমে আদালতে বাতিল করার জন্য আদালতে জমা প্রদান করেন। কিন্তু উক্ত মামলাটিতে এখন পর্যন্ত কোন সরকারি কৌশলী নিয়োগ দেওয়া হয় নাই।

তাই এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ বাংলাদেশ সরকারের কাছে সঠিকভাবে হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তা না হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হবে।

ইতিপূর্বে চিরিরবন্দরের ৯নং ভিয়াইল ইউনিয়নের রামপুর মৌজায় অবস্থিত বড় জিনাহার পুকুর হতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হয়েছে। উক্ত পুকুর এখনো ভূমিদস্যুদের দখলে আছে বলে জানান এলাকাবাসি।

উক্ত কবরস্থান রক্ষা কমিটির পক্ষে মো. মকবুল হোসেন জানান, কবরস্থান ও পুকুরটি সর্বসাধারণের ব্যবহার্যে। তৈরীকৃত এস এ ভূয়া ২৭নং বাতিল পূর্বক কবরস্থানটি রক্ষার করার জন্য অনুরোধ করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd