ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ের দাম বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও। নতুন মূল্যহার চলতি মাসের শুরু থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এ স্তরে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনে যেখানে ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা ব্যয় ধরা হতো, এখন তা বেড়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা হয়েছে।
অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলেও অতিরিক্ত চাপ পড়বে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব নিয়ে দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করেছিল বিইআরসি। সেখানে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি তুলে ধরে মূল্য বাড়ানোর আবেদন জানায়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকো ইউনিটপ্রতি বিভিন্ন হারে মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানায়। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন নতুন হার নির্ধারণ করেছে।
তবে গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ভোক্তা অধিকার সংগঠন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা মূল্যবৃদ্ধির বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা-বাণিজ্য উভয়ই অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়বে।
সব আপত্তি ও উদ্বেগের পরও শেষ পর্যন্ত নতুন মূল্যহার অনুমোদন দিয়েছে বিইআরসি। ফলে জুন মাসের বিল থেকেই গ্রাহকদের বাড়তি খরচ গুনতে হবে।