বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যে চিঠি জারি করা হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে। ওই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষকদের শাস্তির বিষয়ে একই তারিখে আগে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হলো। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আগের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াল অধিদপ্তর।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব ও পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান স্বাক্ষর করেছিলেন। সেখানে বার্ষিক পরীক্ষার সময় কর্মবিরতি পালনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের একটি অংশ বেতন বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। এর প্রভাবে ১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষাও বাধার মুখে পড়ে এবং অনেক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ২ ডিসেম্বর রাতে শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জানুয়ারি ২০২৬ মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় পরীক্ষা চলাকালে কর্মবিরতিতে থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। বাতিলকৃত ওই চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এরই মধ্যে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে তা কী ধরনের এবং কতজনের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে। তবে রোববারের নতুন আদেশের ফলে সেই নির্দেশনা আর কার্যকর থাকছে না।