• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ

দেশী ও বিদেশী গরু পালনে মামুনের সফলতা

এম এ জলিল শাহ, কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি / ৩৫ জন দেখেছেন
আপডেট : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
‘পৃথ্বী ডেইরি ফার্ম’ নামে মামুনের গরুর খামার

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউ.পির ক্লাবের মোড় নামক স্থানে মীর মহসীন চৌধুরী মামুন প্রমাণ করেছেন চাকরিই জীবনের একমাত্র পথ নয়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘পৃথ্বী ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি গরুর খামার।

তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাষ্টার্স, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভসিটি থেকে এল.এল.বি, এল.এল.এম পাশ করে। যা এখন স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, চাকরি ছেড়ে স্বাধীনভাবে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই খামার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন মীর মহসীন চৌধুরী মামুন। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন। সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এই খামার বর্তমানে একটি সফল উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে খামারটিতে গাভী ও মহিষসহ প্রায় ৭৬টি গরু রয়েছে। প্রতিটি গরুই নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে লালন-পালন করা হয়। খামারের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে খামারের ৭৬টি গরুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ‘লাল মিয়া’ নামের একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়। শাহিওয়াল জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি, যা ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন।

খামার মালিক বলেন, লাল মিয়াকে আমরা একেবারে স্বাভাবিকভাবে বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। ঘাস, ভুসি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই তাকে লালন-পালন করা হয়েছে। চার বছর ধরে লালন-পালন করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাল মিয়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। এছাড়া খামারে আরও প্রায় ৭টি ষাড় গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে। খামার কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এবারের কোরবানির ঈদে ভালো বিক্রি হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে গরু পালন করে এমন সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেক তরুণই খামার দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং নিজেরাও এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

মীর মহসীন চৌধুরী মামুন বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মতো করে কিছু করতে পারলে সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই, আমাদের এলাকার তরুণরা এগিয়ে আসুক এবং নিজেরা কিছু করার চেষ্টা করুক।

মামুন ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী। সে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিল। আমি চাই, আমাদের এলাকার তরুণরা এমন উদ্যোগ নিক-তাহলে বেকারত্ব অনেকটাই কমে যাবে।

উল্লেখ্য, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে ২০১৮ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মামুন। ধীরে ধীরে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ছোট সেই খামারটি আজ ৭৬টি গরুর একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে বিক্রয়যোগ্য ৪২টি ষাঁড় গরু ও ১৫টি মহিষ রয়েছে। প্রতিবছরই খামার থেকে ১০-১২ টি গরু বিক্রি হয়। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এই খামারে উৎপাদিত খাঁটি দুধ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: আবু সরফরাজ হোসেন বলেন, মীর মহসীন মামুন খামার আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকি। তার খামারে গরুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা হয়, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd