ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাকিস্তানের দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে আইসিসি নিশ্চিত করে যে, টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে বিসিবিকে কোনো প্রকার আর্থিক, ক্রীড়া বা প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না।
ক্রিকেটভিত্তিক গণমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে চলমান আলোচনার ফলস্বরূপ এই ঘোষণা এসেছে। আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার নীতির ভিত্তিতেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পরিবর্তে সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিসিবি চাইলে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে (ডিআরসি) যাওয়ার অধিকারও বহাল থাকবে।
ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এবং আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতের মাটিতে খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ এবং বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কার দাবি জানায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই ঘটনার পর পাকিস্তান সরকারও বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় এবং বিষয়টি বাংলাদেশের ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করে। এর আগে রোববার লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পিসিবি জানিয়েছে, তাদের বয়কট সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীঘ্রই জানানো হবে, তবে বাংলাদেশের বিষয়টি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
আইসিসির সঙ্গে এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ২০৩১ সালের পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে আরেকটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে এই টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, এটি বাংলাদেশের আয়োজক সক্ষমতার প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন এবং দেশটিতে ক্রিকেটের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অংশ।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করলেও নিশ্চিত করেছেন যে, এতে আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশটিতে ক্রিকেটের উন্নয়ন, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে আমরা অংশীজনদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।’ সব পক্ষই ক্রিকেটের স্বার্থে পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।