দিনাজপুরের সুইহারী মাঝাডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার অফিস কক্ষে অগ্নিসংযোগ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
ওই মাদ্রাসা থেকে ইস্তফা দেয়া সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে ৪ জন শিক্ষক এই কাজটি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসার সভাপতি ওবায়দুর রহমান ও সুপারিটেনডেন্ট জামিল উদ্দিন।
রবিবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা। এ সময় মাদ্রাসা কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবু, আব্দুস সোবহান, মোকসেদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ২০২০ সালের ১৭ জুন সাইদুর রহমান জেলা প্রশাসকের কাছে সুপার হিসেবে দাবি করে আবেদন করেন। আবেদন দেয়ার প্রেক্ষিতে বিষয়টির তদন্তভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করেন। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত-তদারকি করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করেন। তদন্তে উল্লেখ থাকে যে, তাদের কোন নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র এবং কমিটির রেজুলেশনসহ কোন কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাই এই প্রতিষ্ঠানে সুপার হিসেবে দাবি করলেও এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন। সাইদুর রহমান ২০১১ সালের ০৩ মে চাকুরী থেকে ইস্তফা দেন। একই বছরের ০৫ মে রেজুলেশনের মাধ্যমে ইস্তফা পত্রটি অনুমোদন করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানে জামিল উদ্দিন গত ২০০১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাসে জুনিয়র মৌলভী হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৪ সালের ১০ নভেম্বর এবতেদায়ী প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। গত ২০০৬ সালের ০৩ অক্টোবর মাদ্রাসার শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক আর্গানাইজিং কমিটিতে জামিল উদ্দিন শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সহ-সুপার হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১০ সালের ০২ ডিসেম্বর নিয়োগপত্র মোতাবেক ০৭ ডিসেম্বর সুপার পদে যোগদান করে অদ্যবধি দায়িত্বরত আছেন।
চলতি ২০০৬ সালের ০১ ফেব্রুয়ারী সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে ও হুকুমে তৎকালীন অফিসের পিওন এই প্রতিষ্ঠানের ৪টি কক্ষে, একটি অফিস কক্ষে ও ৩টি ক্লাশ রুমে তালা লাগিয়ে দেয়। পরবর্তীতে গত ০৬ ফেব্রুয়ারী ভোর পৌনে ৬ টার দিকে তারা একজোট হয়ে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে তালা ভেঙ্গে অফিস কক্ষে রক্ষিত সমস্ত কাগজপত্র একত্র করে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই সময় স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। পরবর্তীতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিদর্শন করেন এবং প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়। পরে তারা আমার প্রতিষ্ঠানের দুটি অভিযোগ করেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সভাপতি আইনের আশ্রয় গ্রহন করেন এবং অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনায় ভবিষ্যতে সুইহারী মাঝাডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসায় কোন ব্যক্তি যেন কোন প্রকার মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার না হয় এজন্য আবেদন করেন। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাইদুর রহমান পরে দেখা করে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।