• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
আই হসপিটালের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  দিনাজপুরে ইউনাইটেড কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের মাঝে ট্যাব বিতরণ শিক্ষার মেরুদণ্ড শক্ত না হলে ভেঙে পড়বে জাতি-এমপি জাহাঙ্গীর  দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা স্বাভাবিক মৃত‍্যুকে অস্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করে শিক্ষকদের দায়ী? দিনাজপুর লায়ন্স ক্লাবের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে দিনাজপুরে র‍্যালি দিনাজপুরে তাঁতী দলের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি অনুমোদন ধ্রুব পরিষদ এর বার্ষিক পরীক্ষার সনদপত্র বিতরণ

স্বাভাবিক মৃত‍্যুকে অস্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করে শিক্ষকদের দায়ী?

কামরুজ্জামান টুটুল, পঞ্চগড় প্রতিনিধি / ২৩৪ জন দেখেছেন
আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

পঞ্চগড়ে শিক্ষক দিবসের দিনে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত‍্যুবরণ করে। পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই শিক্ষক মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষকের সেই স্বাভাবিক মৃত‍্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন বিদ‍্যালয়ের অফিস সহকারী সুজাত বাদশাহ স্থানীয় কিছু লোকজনকে সাথে নিয়ে নানান স্লোগান তুলে বিদ‍্যালয়ে মব সৃষ্টি করে। এতে ওই বিদ‍্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে  ছুটোছুটি করে। এতে বিদ‍্যালয়ে পড়াশোনা প্রায় চার ঘন্টা বন্ধ থাকে।
সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর প্রধান শিক্ষক নূর আজম যথাসময়ে বিদ‍্যালয়ে এসে  শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফুলের শুভেচ্ছা  গ্রহণ, সহকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করে অফিসের ফাইলপত্রের কাজ শেষে পাশ্ববর্তী মীরগড় বাজারে একটি চায়ের দোকানে চা পান করতে যায়। এসময় তার সাথে সার্বক্ষণিক উপস্থিত ছিলেন বিদ‍্যালয়ের অফিস সহায়ক সুজাত বাদশাহ। চা পানের পূর্বে তিনি ওই বাজারের ঔষধের দোকান থেকে উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের জন‍্য দুটি ট‍্যাবলেট ও গ‍্যাসের ট‍্যাবলেট নিয়ে খায়। এরপর ওই হোটেলেই তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থতা অনুভব করলে সুজাত বাদশাহ তাকে একটি অটোতে করে পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত‍্যু হয়। মৃত শিক্ষকের লাশ বাড়িতে নেয়ার পথে বিদ‍্যালয়ের পাশে এনে অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন কিছু দাবী তুলে স্বাভাবিক এ মৃত‍্যুর ঘটনাকে অস্বাভাবিক রূপে উপস্থাপন করে বাদশাহ। এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে এনসিপিসহ কয়েকটি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের শক্তি সামর্থ্য জানান দিতে ঘটায় এ ঘটনা।
স্থানীয় একাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবক জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষকের স্বাভাবিক মৃত‍্যুর বিষয়টি রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব‍্যবহার করে  নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করলেও চিকিৎসক বলছেন হৃদরোগেই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুকে ঘিরে মব সৃষ্টি ও নানান অভিযোগ বিষয়ে জানা গেছে, বিদ‍্যালয়ের ম‍্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাদের পছন্দের সভাপতি ও সহ সভাপতি নির্বাচন করতে প্রধান শিক্ষক নূর আজমকে চাপ দেয়। ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে গঠিত নতুন  কমিটির একাধিক সদস‍্যসহ প্রধান শিক্ষক রাতে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির বাড়িতে মিটিং করেন। সেখানে তাদের মনোনীত সদস‍্যকে সভাপতি ও সহ সভাপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। এ ঘটনায় তিনি মানসিক চাপ অনুভব করতে পারেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখানে বিদ‍্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও তারা জোড় দিয়ে জানিয়েছেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক আফরোজা বানু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত তিন মাস ধরে বিদ‍্যালয়ে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।  প্রধান শিক্ষকের সাথে আমাদের শিক্ষকদের কোন দ্বন্দ বা ক্ষোভ কিংবা অভিযোগ কোনটাই আমার চোখে পড়েনি প্রধান শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনার সাথে আমাদের কোন শিক্ষক জড়িত নয়। তবে কেন বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলে হঠাৎ করেই এলাকার কিছু লোকজন বিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে বিদ্যালয় মাঠে আচমকা বিক্ষোভ করেন।
তিনি বলেন, সহকর্মী সহকারী শিক্ষক  শাহাজুল ইসলাম, আকলিমা আকতার ইতি ও আতাউর রহমান তারা ঠিকমতই তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কোনদিন কারও কাছে কোন অভিযোগ তো করেননি বরং তাদের পাঠদান সম্পর্কে সবসময়ই ভালো মন্তব্য করতেন। মূলত তারা তিনজনই ভাল শিক্ষক।
তিনি আরও জানান প্রধান শিক্ষক বিদ‍্যালয়ের রুটিন মাফিক কাজের ফাঁকে বিদ্যালয়ের বাইরে মীরগড় বাজারে চা পান করতে যায়। সেখানে তার ভাতিজা কাম অফিস সহায়ক সুজাত বাদশাহ উপস্থিত ছিল। সেখানে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে কিছুদিন আগে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে কথা উঠেছিল। কমিটিতে এলাকার রুহুল আমীনের স্ত্রী সাবেক সভাপতি জান্নাতারা বেগম পুনরায় সভাপতি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল কিন্তু আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সোলায়মান হোসেনকে সভাপতি নির্বাচিত করেন সদস্যরা। নতুন সেই কমিটি এখনো অনুমোদন হয়নি।
এ সময় সহকারী শিক্ষিকা  লুৎফা পারভিন, রমজিনা আকতার এবং সেলিনা আকতার জানান, প্রধান শিক্ষকের সাথে বিদ‍্যালয়ের কোন শিক্ষকের কোন দ্বন্দ ছিলনা। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করত। মব সৃষ্টিকারীদের তোলা দাবী সম্পূর্ণই মনগড়া ও ভিত্তিহীন। তারা সাংবাদিকদের বলেন আমাদের আতাউর স্যার, ইতি ম্যাডাম ও সাহাজুল স্যার চমৎকার করে ক্লাস নিতেন। সবসময়ই হাসিখুশি  থাকতেন। আমাদেরকে গল্প শুনিয়ে আনন্দ দিয়ে ভাল করে পড়া পড়াতেন।
একই কথা বলেন, শিক্ষার্থী অভিভাবক বাহারুল ইসলাম বিকম, লিজা ও সেলিনা আকতার।
ছুটি পাওয়া সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, আমার সাথে প্রধান শিক্ষকের দারুণ সুসম্পর্ক ছিল।  সবসময় আমরা হাসিখুশি ছিলাম দুইজনে । কোন ব্যক্তিগত দ্বন্দ কখনও হয়নি। বরং আমি বিদ্যালয় থেকে বদলি নিতে চেয়েছিলাম কিন্ত আমার সাথে ভাল সম্পর্কের সুবাদে আমাকে অন্যত্র বদলি হতে দেয়নি। তিনি আমাকে  বলেছিলেন, আর বেশিদিন  আমার চাকুরি নাই, এই আড়াই তিনটা বছর একসাথে থাকি।
অভিযুক্ত আরেক শিক্ষিকা আকলিমা আকতার ইতি জানান আমার সাথে কোন ব্যাক্তিগত দ্বন্দ নেই তবে আমাকে অভিযুক্ত করার পেছনে আমি মনে করি আমাদের বিদ্যালয়ের অফিস সহযোগী কাম নৈশ্য প্রহরী সুজাত বাদশার সাথে গত এক মাস আগে আমাকে হুমকি দিয়েছিল যে আমাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিবেন।
অপর শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, বিদ‍্যালয়ের যেকোন কাজে প্রধান শিক্ষক তাকে সাথে রাখতেন। বেতন তুলতে গেলেও তাকে সাথে নিতেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd