পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ৭৩নং দোহসুহ আমলা ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট ৭১ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করলেও তাঁদের পাঠদানের জন্য কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষিকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামো হওয়ার কারণে বিদ্যালয় ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় এবং কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ সালমা আক্তার সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমাদের বিদ্যালয়ে মোট ৭১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু পাঠদানের জন্য শিক্ষক আছেন মাত্র ৩ জন, যার মধ্যে আমরা ৩ জনই নারী শিক্ষক। প্রশাসনিক সমস্ত কাজ ও অফিসের কাগজপত্র একাই সামলাতে হয় বলে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকের চরম ঘাটতি রয়েছে। সকালে ৯টা থেকে বিরতিহীনভাবে একের পর এক ক্লাস নিতে হয়। কোনো ‘লেজার পিরিয়ড’ না থাকায় শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম কষ্ট পোহাতে হয় আমাদের।”
অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জানান, সম্প্রতি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসেছিলেন। বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে তিনি সংস্কার বাজেটের আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা ও সুপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত একটি নতুন ভবন তৈরি এবং একটি সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।