শিক্ষা কেবল সনদের পাতায় জমা থাকা কিছু অক্ষর নয়; শিক্ষা জাতির বিবেক, সভ্যতার ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের দীপশিখা। যে জাতি শিক্ষার ভিত মজবুত করতে ব্যর্থ হয়, সময়ের ঝড়ে তার সামাজিক ও নৈতিক কাঠামো একদিন ভেঙে পড়ে। তাই নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার পাশাপাশি মানবিকতা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দিনাজপুর সদর উপজেলার কোম্পানি মোড়ে অবস্থিত গোপালগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম বর্ষপূর্তি এবং বাংলাদেশ নন-গভর্নমেন্ট স্কুল বোর্ড সোসাইটি, দিনাজপুর কর্তৃক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে উচ্চারিত হয় দৃঢ় প্রত্যয়ের বাণী—“আমাদের প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে জাতি অনৈতিকতার অন্ধকার পথে ধাবিত হবে।”
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সেই জ্ঞান ও মূল্যবোধকে জীবনের প্রতিটি স্তরে ধারণ করতে হবে। শৈশবের শিক্ষা মানুষের হৃদয়ে যে রেখা আঁকে, তা সারাজীবন পথের দিশা হয়ে থাকে। শিশুমনের কোমল মাটিতে বোনা মূল্যবোধের বীজই একদিন চরিত্রের মহীরুহে পরিণত হয়। তাই মেধার যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৃজনশীল, গঠনমূলক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের তাৎপর্য তুলে ধরে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক উচ্চারণ নয়; বরং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকারের অন্তর্গত প্রতিধ্বনি। এই স্বপ্নকে বাস্তবতার মাটিতে প্রতিষ্ঠিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি গোপালগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. সোহেল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন শরিফ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নূরে জান্নাতি ফেরদৌসীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চেহেলগাজী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আমির আলী।
অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা। সেই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ, গর্ব ও আগামীর স্বপ্নের দীপ্তি। একই সঙ্গে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ এবং উপহার প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা।
দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কবুতর ও বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে মিলনমেলার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। আকাশে উড়ে যাওয়া রঙিন বেলুন আর কবুতরের ডানায় যেন ভেসে ওঠে নতুন দিনের প্রত্যাশা। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পতাকাস্তম্ভের ফলক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির নেতা মো. মামুনুর রশিদ কচি, কোতোয়ালি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোস্তফা রিয়াদ আল আরাফাত পান্না, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ রূপ নেয় শিক্ষা, স্মৃতি, আনন্দ ও আগামীর স্বপ্নে ভরা এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।