প্রকৌশল শুধু ইট-পাথরের নির্মাণ নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের শিল্প। সেই স্বপ্ন ও সৃজনের অভিযাত্রাকে আরও দীপ্তিময় করে দিনাজপুরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’।
দিনাজপুর কেন্দ্রের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে মিলিত হন জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীরা।
আজ সকাল দশটায় দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক সার্কেল কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও আইইবির পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে দেশ গঠন ও উন্নয়নের প্রত্যয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রকৌশলীরা।
সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বর্ণাঢ্য উৎসব র্যালি শহরের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে। উন্নয়নের প্রতীকী ব্যানার, স্লোগান আর উদ্দীপনায় মুখর সেই শোভাযাত্রা যেন জানিয়ে দেয়—প্রযুক্তি ও মেধার সম্মিলিত পথচলাতেই এগিয়ে যাবে আগামীর বাংলাদেশ।
পরবর্তীতে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সড়ক সার্কেল কনফারেন্স রুমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। আনন্দঘন এই মুহূর্তে উপস্থিত প্রকৌশলীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি দিনাজপুর কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও দিনাজপুর সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুল আলম খান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে দক্ষ ও মানবিক প্রকৌশলী তৈরির বিকল্প নেই।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আইইবি দিনাজপুর কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক ও দিনাজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান। তিনি সংগঠনের ঐতিহ্য, পেশাগত দায়বদ্ধতা এবং তরুণ প্রকৌশলীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবু আহমেদ জাফরুল্লাহ, প্রকৌশলী এবিএম হুমায়ুন কবীর, প্রকৌশলী মোঃ হাসনাত জামান, প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামান, প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান সরকার, প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ, প্রকৌশলী মোঃ শামীম আখতার, প্রকৌশলী মোঃ বেলাল আহমেদ, প্রকৌশলী মোঃ মুরাদ হোসেন, প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ, প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং প্রকৌশলী মোহাম্মদ সৈকত আলী।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দিনাজপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ফাওজুল কবীর, হাবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফেরদৌস ওয়াহিদ এবং প্রকৌশলী মোঃ সৈকত আলী।
দিনাজপুরের প্রকৌশল অঙ্গনের এই মিলনমেলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি ছিল জ্ঞান, দায়বদ্ধতা ও উন্নয়নের স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার এক অনুপ্রেরণাময় আয়োজন।