দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পূর্ব শত্রুতার জেরে বরেন্দ্র পানির ডিপ তালা বন্ধ ও তা খোলা নিয়ে মারপিটের শিকার হয়েছে সবুজ কুমার রায় (৩৯) ও তার পরিবার। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
গেল ১৮ ফেব্রুয়ারী বুধবার চিরিরবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের দুর্গাডাঙ্গা এলাকার জগদীশ চন্দ্র রায়ের ছেলে সবুজ কুমার রায়।
লিখিত অভিযোগে সবুজ কুমার রায় একই এলাকার সুবাস চন্দ্র রায়ের ছেলে মলিন চন্দ্র রায় (৩৭), মৃত রাজেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে সুবাস চন্দ্র রায় (৬৫), মৃত নিপেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে দেবদুলাল রায় (৪৫), বাবু রাম রায় (৫২), মৃত রাজেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে সুকুমার রায় (৫২), দেবদুলালের ছেলে উৎসব রায় (১৮), সুবাস চন্দ্র রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণম বালা রায় (৫৫), জলধর রায়ের ছেলে জয়ন্ত কুমার রায় (৩৫), বাবু রাম রায়ের স্ত্রী রানু বালা রায় (৪৫) ও দেবদুলাল এর স্ত্রী শিল্পী রানী রায় (৩৮) বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগে উল্লেখ করে যে, বিবাদীগনদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা জমি নিয়ে ঝগড়া বিবাদ ও মনোমালিন্য চলে আসছে। তাদের সাথে সবুজ রায় একটি সরকারি বরেন্দ্র ডিপ পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু পূর্বের শত্রুতার জেরে তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উক্ত বরেন্দ্র পানির ডিপ তালা মেরে বন্ধ করে দিয়ে সবুজের পরিবারকে জমিতে পানি দিতে দেয় না। বিষয়টি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক বরেন্দ্রর তালা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ নিয়ে আসার পরেই ১৭ ফেব্রুয়ারী দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে বিবাদীগনরা হাতে লাঠিসোডা, কোদাল, হাত দিয়ে সবুজ রায় সহ তার মা ও বাবাকে এলোপাথারী মারপিট করে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমী হোন তারা। এমনকি তার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্য হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে। আবার তার মায়ের কাপড় টেনে ছিড়ে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে। পরে ভুক্তভোগী সবুজ সহ তার মা ও বাবা পড়শীদের সহযোগিতায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহন করে। এখনও সবুজের মা ও বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
এই ঘটনায় উপরোক্ত নামধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন সবুজ কুমার রায়।
গ্রামবাসী জানান, ইসকন দুলাল ও বাবুসহ অন্যান্যরা যে অপরাধ করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুন নবী জানান, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।