কোনো কোনো শোকের ভাষা হয় না। প্রিয় মানুষটি আর ফিরবে না—এই নির্মম সত্যের সামনে পৃথিবীর সব শব্দই যেন একসময় নীরব হয়ে যায়। সড়কের একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি জীবন কেড়ে নেয় না; থামিয়ে দেয় একটি পরিবারের স্বপ্ন, অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেয় তার ভবিষ্যৎ। সেই অপূরণীয় শূন্যতা পূরণ করার সাধ্য অর্থের নেই। তবু বেঁচে থাকার কঠিন পথটুকু কিছুটা সহজ করতে দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬৫ জনের পরিবারের সদস্য ও আহত ৮ জনসহ ৭৩ জন ক্ষতিগ্রস্তের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাঞ্চন-১ সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ দিনাজপুর সার্কেলের যৌথ আয়োজনে এ চেক বিতরণ করা হয়।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাঃ সাদরাতুন মুমতাহিনা।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরটিএ দিনাজপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মোঃ রবিউল ইসলাম। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নুর আলম সিদ্দিকী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৫৪(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নিহত ৬৫ জনের পরিবারের জন্য ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং আহত ৮ জনকে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
এদিকে দিনাজপুর সার্কেলে এ পর্যন্ত ২৯৮টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২৪১ জন ক্ষতিগ্রস্তের অনুকূলে মোট ১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আখতারুজ্জামান, দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি ভবনী শংকর আগরওয়ালা এবং দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল।
একটি চেক হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে না হারিয়ে যাওয়া বাবাকে, মাকে, সন্তানকে কিংবা প্রিয় স্বজনকে। ফিরিয়ে দিতে পারে না কোনো পরিবারের আগের সেই স্বাভাবিক দিনগুলোও। কিন্তু শোকের ভারে নুয়ে পড়া হাতে যখন সহায়তার স্পর্শ এসে পৌঁছায়, তখন হয়তো মনে হয়—এই দীর্ঘ অন্ধকার পথচলায় তারা একেবারে একা নয়।
সড়ক তার নির্মম স্মৃতি রেখে গেছে; রাষ্ট্রের এই সহায়তার হাত সেই স্মৃতির পাশে রেখে গেল সামান্য হলেও বেঁচে থাকার সাহস।