• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
কাহারোলে দেশী গরু ও মহিষ পালনে সাফল্য অর্জন দিনাজপুরে পুজার্চনার মধ্য দিয়ে মনসা পূজা অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে সীমান্তের ১৫ যুবককে প্রশিক্ষণ দিল বিজিবি ৭ দফা দাবিতে দিনাজপুরে দলিল লেখক সমিতি স্মারকলিপি পেশ  ঘোড়াঘাটে ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বাল্যবিয়ে মুক্ত ঘোষণার আগে ও পরে প্রচার ও জনসচেতনা কার্যক্রম দিনাজপুর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত মোহাম্মদ আলী এন্ড ফয়জুন নেছা মেমোরিয়াল হাই স্কুল অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন করলেন এডিসি (সার্বিক) ট্রাকের ধাক্কায় মারা গেল মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ঘোড়াঘাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা

কাহারোলে দেশী গরু ও মহিষ পালনে সাফল্য অর্জন

এম এ জলিল শাহ্, কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি / ৩৫ জন দেখেছেন
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউপির ক্লাবের মোড় নামক স্থানে মীর মহসীন চৌধুরী মামুন প্রমাণ করেছেন চাকরিই জীবনের একমাত্র পথ নয়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘পৃথ্বী ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি গরু ও মহিষের খামার।

তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাষ্টার্স এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভসিটি থেকে এল.এল.বি, এল.এল.এম পাশ করেন।

তার গরু ও মহিষের খামার এখন স্থানীয়দের মাঝে আলোচনার বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, চাকুরি ছেড়ে স্বাধীনভাবে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই খামার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন মীর মহসীন চৌধুরী মামুন। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন। সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এই খামার বর্তমানে একটি সফল উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে পৃথ্বি এগ্রো ফার্মে ৮জন শিক্ষিত যুবক বিভিন্ন শিফটে কাজ করেন। দেশী গরু ও মহিষসহ প্রায় ৯৬টি গরু ও মহিষ রয়েছে। প্রতিটি গরু ও মহিষের নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে লালন-পালন করা হয়। খামারের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে খামারের ৯৬টি গরু ও মহিষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে উন্নত জাতের মহিষগুলো। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে খামারটিতে দেখতে ভিড় করছেন খামার প্রিয় লোকজন। উক্ত খামারে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। নেপিয়ার ঘাস, ভুসি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই তাকে তিনি গরু ও মহিষের লালন-পালন করছেন। প্রতি বছর তিনি নিজ হাতে গরু ও মহিষ লালন-পালন করে বেশি দামে বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করে রাখেন।

এছাড়া খামারে রয়েছে প্রায় ২৬ টি দেশী গরু ও ৭০ টি মহিষ। স্থানীয়রা বলছেন, সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে গরু পালন করে এমন সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেক তরুণই খামার দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং নিজেরাও এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

মীর মহসীন চৌধুরী মামুন বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মতো করে কিছু করতে পারলে সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই, আমাদের এলাকার তরুণরা এগিয়ে আসুক এবং নিজেরা কিছু করার চেষ্টা করুক। মীর মহসীন চৌধুরী মামুন ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী। সে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিল। আমি চাই, আমাদের এলাকার তরুণরা এমন উদ্যোগ নিক-তাহলে বেকারত্ব অনেকটাই কমে যাবে।

উল্লেখ্য, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে ২০১৮ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মামুন। ধীরে ধীরে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ছোট সেই খামারটি আজ ৯৬টি গরু ও মহিষের একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এই খামারে উৎপাদিত খাঁটি দুধ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো: আবু সরফরাজ হোসেন বলেন, মীর মহসীন চৌধুরী মামুনের খামার আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকি। তার খামারে গরু ও মহিষগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা হয়, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd