ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্যদিয়ে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে। প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই রথযাত্রা শুরু হয়। আগামী ২৪ জুলাই ২০২৬ উল্টোরথের (পূর্ণযাত্রা) মধ্য দিয়ে ৮ দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি হবে।
১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় দিনাজপুর শহরের রায় সাহেববাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে দড়ি টেনে শ্রীশ্রী গিরিধারীজীউ‘র রথযাত্রা মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
রায়সাহেব দেবোত্তর এস্টেট এর এজেন্ট চিত্ত ঘোষ এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিম, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, রায় সাহেব দেবোত্তর এস্টেটের মানবেন্দ্র মনোজ, পরিমল চক্রবতী তপন, কাজল ভৌমিক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবাহক উত্তম রায় প্রমুখ।
রথযাত্রা রায় সাহেববাড়ী মন্দির হতে আরম্ভ হয়ে গণেশতলা, মডার্ন মোড়, নিমতলা, মালদহপট্টি, বড়বন্দর স্বর্গীয় ডা. কৈলাশ চন্দ্র রায়-এর বাসভবন মোড় ঘুড়ে বালুবাড়ী নিমকালী মন্দির, বটতলা মোড়, বাঞ্ছারামপুল, সাধনা ঔষধনালয় মোড় হয়ে মালদহপট্টি, বাসুনিয়াপট্টি, চারুবাবুর মোড় হয়ে “রায়সাহেববাড়ী রথখোলা মন্দির” প্রাঙ্গনে গিয়ে সমাপ্ত হয় বিকাল সাড়ে ৪ টায়। এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সৌজন্যে ভক্তবৃন্দকে পানির বোতল দেওয়া হয়। এরপর ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। আগামী ২৪ জুলাই উল্টোরথের মাধ্যমে রথ পুনরায় রথখোলা মন্দিরে স্থাপিত হবে।
রথযাত্রা উপলক্ষে সকাল থেকেই অসংখ্য ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠে। ধর্মীয় আচারবিধি, পরিক্রমা ও বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় রথযাত্রার উৎসব। ভক্তবৃন্দের উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাসর, ঘণ্টার শব্দে পুরো এলাকা উৎসবে মেতে উঠে। ঢাক-ঢোল, কাসর, ঘণ্টা বাজিয়ে আর শঙ্খ উলুধোনি দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথারোহান করা হয়। রথযাত্রা উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রসঙ্গত, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে, জগন্নাথদেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। তাঁর অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমূর্তি রেখে রথ নিয়ে যাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
রথযাত্রায় শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে ভক্ত-পূণ্যার্থীরা সমবেত হবেন বলে আয়োজকবৃন্দ জানিযেছেন। সুষ্ঠুভাবে ও শান্তি-শৃংখলার সাথে রথযাত্রা সম্পন্নের লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। রথযাত্রা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।