• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ

সংরক্ষিত ৫০ নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক দৌড়ঝাঁপ

জাতীয় ডেস্ক / ১৬৮ জন দেখেছেন
আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয় সংসদ ভবন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে কারা জায়গা পাচ্ছেন এ নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা, লবিং ও প্রস্তুতির তোড়জোড় চলছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনে অবদানের বিবরণ দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করে দলের নীতিনির্ধারণী মহলে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

তবে বিএনপির দায়িত্বশীল মহল বলছে, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ঈদের আগে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সংবিধান অনুযায়ী, প্রতি ছয়জন সাধারণ সংসদ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পাওয়ায় দলটি সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ১১টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১টি এবং অবশিষ্ট ৩টি আসন স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপিতে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য অভিজ্ঞ ও নবীন নেত্রীদের সমন্বয়ে তালিকা তৈরির আলোচনা চলছে। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন- আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার (রানু), নিপুণ রায় চৌধুরী, বেবী নাজনীন, নিলুফার চৌধুরী (মনি), বিলকিস ইসলাম, শাম্মী আখতার, সৈয়দা আসিফা আশরাফী (পাপিয়া), রাশেদা বেগম (হীরা), রোখসানা খানম, আয়েশা সিদ্দিকা, নেওয়াজ হালিমা, ফরিদা ইয়াসমীন, হেলেন জেরিনসহ আরও অনেকে।

এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের মধ্য থেকেও একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। তাদের মধ্যে আসমা আজিজ, সুলতানা জেসমিন (জুঁই), নাসিমা আক্তার (কেয়া), রোকেয়া চৌধুরী ও সুরাইয়া বেগমের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামীও। দলটির মহিলা বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, আইনজীবী সাবিকুন্নাহার, মার্জিয়া বেগম ও মারদিয়া মমতাজ। দলের নেতারা জানিয়েছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম (মিতু) এ আসনের জন্য আলোচনায় রয়েছেন।

নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকতে হয়। সে হিসাবে ১৪ মার্চের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ ছাড়া আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৮৬ জন নারী প্রার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে জয়ী হয়েছেন ৭ জন। সংরক্ষিত ৫০টি আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৭ জন, যা মোট সদস্যের প্রায় ১৬ শতাংশ। -লাইভ ২৪ নিউজপেপার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd