ধানের শিষে যখন সোনালি স্বপ্ন দোলে, তখন সেই স্বপ্নের মাটির গভীরে থাকে সারের অদৃশ্য শক্তি। অথচ সেই শক্তিই আজ যেন বন্দি এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের জালে—এমন অভিযোগ তুলেই দিনাজপুরে সরব হলেন বিএডিসি সার ডিলাররা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে, রোদের তাপে আর দাবির উত্তাপে এক হয়ে দাঁড়ালেন তারা। দিনাজপুর বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে উচ্চারিত হলো একটাই কথা—
“সিন্ডিকেট ভাঙো, কৃষক বাঁচাও।”
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়—যেন কৃষকের দুঃখভরা মাটির ভাষা পৌঁছে যায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রাঙ্গণে।
ডিলারদের ভাষ্য, সারের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত না হলে কৃষকের ঘামে ভেজা স্বপ্ন শুকিয়ে যায়। তারা অভিযোগ করেন, বিএডিসি ডিলাররা ইউরিয়া ও আমদানিকৃত নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যেখানে বিসিআইসি ডিলাররা একচেটিয়া সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
তাদের কথায় উঠে আসে বাস্তবতার কঠিন চিত্র—
কৃষক সার পাচ্ছেন না, আর পেলেও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ, ভারী হচ্ছে কৃষকের কাঁধ।
ডিলাররা জানান, গত বছরের নভেম্বরে প্রণীত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা’ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে এই সংকট অনেকাংশে লাঘব হবে। এটি শুধু সিন্ডিকেট ভাঙার পথই খুলবে না, বরং প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ শফিউল্লাহ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল বাতেন, সদস্য খোরশেদ আলমসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ—বজলুর রশিদ চৌধুরী, তোফাজ্জল হোসেন, আখতারুজ্জামান, তহিদুল ইসলাম, সোহাগ হোসেন, জয়নাল আবেদীন, আব্দুস সালাম, জাহিদ হোসেন, শ্রী বিপুল অধিকারী এবং কৃষক ফেরদৌস আলম।