দিনাজপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দম্পতিসহ একজন জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলা ও বীরগঞ্জ উপজেলায়।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে সদর উপজেলার দিনাজপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়কের লক্ষীতলা বাজারের কাছে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আনিসুর রহমান নামে এক জামায়াত নেতা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এসময় এক পথচারি আহত হয়েছেন।
নিহত আনিসুর রহমান দিনাজপুর শহরের রাজবাঢী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী দলের আমির এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আল-ফালাহ আম’র পরিচালক ছিলেন।
দিনাজপুর কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুন নবী দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আল-ফালাহ আম উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা মো. আয়াস উদ্দীন জানান, আনিসুর রহমান মোটরসাইকেলযোগে অফিসের কাজে লক্ষীতলা বাজারে সংস্থার শাখা অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানে অফিসের কাজ শেষে শহরে ফেরার পথে লক্ষীতলা বাজারের কাছে একটি দ্রুতগামী ট্রাক পিছন থেকে তার মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুছড়ে যায় ও মোটরসাইকেলে থাকা আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত আনিসুর রহমানকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যান। সাথে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন পুলিশ।
দিনাজপুর কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুন নবী জানান, ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের কেউ মামলা করলে দায়ী ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক তারিনী বর্মন (৩৫) ও তার স্ত্রী ইতি বর্মন (২৮) এর মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বীরগঞ্জ-পীরগঞ্জ সড়কের কোমরপুর বটতলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন ও তার স্ত্রী ইতি বর্মন গুরুতর আহত অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
নিহত তারিনী বর্মন উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের রুহিলা গ্রামের জিতেন্দ্র বর্মনের ছেলে। এবং নিহত ইতি রাণী বর্মন মহুগাঁও বাজারের একজন কসমেটিক্স ব্যবসায়ী। তাদের ঘরে ৩ বছরের একটি শিশু পুত্র রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলের সাথে অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাক্টরের সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেল চালক তারিনী বর্মন ও তার স্ত্রী ইতি বর্মনকে আহত অবস্থায় বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমেেপ্লক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারিনী বর্মনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনয় তার স্ত্রী ইতি বর্মনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত তারিণী বর্মনের বৌদি মিনা রানী জানান, আজ বুধবার সকালে তার স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে বের হয়ে। কোমর রাইস মিল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত থেকে আসা বেপরোয়া একটি ট্রাক্টর মোটরসাইকেলের উপরে উঠিয়ে দেয়। এতে তার দেবর তারিনি বর্মনের মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ট্রাক্টরের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেলেও ট্রাক্টর ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আর নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।