দৈনিক উত্তর বাংলা’র উদ্যোগে ও দিনাজপুর লেখক ফোরামের সহযোগিতায় দিনাজপুরের প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রচিত ‘দিনাজপুর: টুকরো টুকরো স্মৃতি কথায় খন্ড খন্ড ইতিহাস ‘ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়ে গেল ৩১ অক্টোবর শনিবার।
দিনাজপুর প্রেসক্লাবের প্রেস কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত কবি ও লেখক ড. মাসুদুল হকের সভাপতিত্বে এবং কবি বিধান দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ বক্সী বাচ্চু, কবি ও গবেষক প্রফেসর মোজাম্মেল বিশ্বাস, গল্পকার জিল্লুর রহমান, কবি ও গীতিকার অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম সরকার, কবি ও গবেষক আলী ছায়েদ এবং দিনাজপুর লেখক ফোরামের সভাপতি আজহারুল আজাদ জুয়েল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আলী ছায়েদ। বইটি নিয়ে পর্যালোচনামূলক বক্তব্য রাখেন কবি ও সমালোচক আযাদ কালাম, কবি মাসুদ মুস্তাফিজ, কবি মাহবুব আলী, সাংস্কৃতিক সংগঠন মনিমেলার পরিচালক নুরুল মতিন সৈকত প্রমুখ।
আলোচনা করেন প্রফেসর জলিল আহমেদ, প্রফেসর কামরুজ্জামান গোপন, লেখক ইরফান চৌধুরী, ড. মারুফা বেগম, কবি ওয়াসিম আহমেদ শান্ত, কবি চাষা হাবিব, সাংবাদিক একরাম হোসেন তালুকদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে মতিউর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করে শোনান দিনাজপুর লেখক ফোরামের নির্বাহী সদস্য ও আদিবাসী নেত্রী রীতা হেমব্রম। দিনাজপুর: টুকরো টুকরো স্মৃতি কথায় খন্ড খন্ড ইতিহাস ‘ গ্রন্থের বিভিন্ন অংশ হতে পাঠ করে শোনান দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক কাশি কুমার দাস, দিনাজপুর লেখক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসমিন আরা রানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার শুভ্র বসাক, সাহিত্য সম্পাদক তহমিনা খাতুন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, দিনাজপুর নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু, দৈনিক উত্তর বাংলার নির্বাহী সম্পাদক জিনাত রহমান, সাংস্কৃতিক কর্মী প্রদীপ কুমার ঘোষ, দিনাজপুর লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অদিতি রায়, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে তরিকুল আলম, বাসব রায়, দেবনাথ দাস, ফাতেমা বেগম, গোলাম রাব্বানী, আবু সাঈদ, পুষ্পিতা রায়, বিলকিস জান্নাত, মির্জা নুরুল ইসলাম, রাশেদুজ্জামান রাসেল, রবিউল আউয়াল রবি, মজেল উদ্দিন, আরতী হাজদা, রোকসানা পারভীন, রেবেকা সুলতানা, আসলামুর রহমান, মিনু রানী রায়, বরকতউল্লাহ খোকন, আফসানা ইমু, রুবি আফরোজ, হাবিবুল ইসলাম বাবুল, মিজানুর রহমান (ডোফুরা), মকিদ হায়দার শিপন, মামুনুর রহমান জুয়েল, সাহেব আলী, শিরিন আখতার পারভিন, সনৎ চক্রবর্তী লিটু, সাইদুল ইসলাম, মাহবুব আলম, মিনা সুলতানা, সাজিউল ইসলাম সাজু, তাসমিয়া বেগম মধুবন্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে একটি বইয়ের মাধ্যমে টুকরো টুকরো স্মৃতি কথায় খন্ড খন্ড ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক মতিউর রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই বই হয়তো ইতিহাস নয়, কিন্তু এখান থেকেই ইতিহাসের অনেক উপকরণ পাওয়া যাবে। কাজেই বইটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে ভাষা ও শব্দের ব্যবহারে বিশেষ সতর্ক থাকার জন্য লেখক সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি মতিউর রহমানকে ‘প্রবীণ ‘ না বলে জোষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রবীণ বললে বৃদ্ধ হয়ে যায়। জোষ্ঠ ব্যক্তিরা অনেক ভালো কাজ করে থাকেন।
অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে কখনো কথা বলেন নাই। কিন্তু তিনি দেশ ও সমাজ নিয়ে ভেবেছেন । তার লেখায় দেশপ্রেম ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এখন মূল্যবোধের বড়ই অভাব। এক্ষেত্রে 1লেখক সাংবাদিকদের গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে।