• রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

দিনাজপুরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

রফিক প্লাবন, দিনাজপুর: / ১২ জন দেখেছেন
আপডেট : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছবি: পল্লীবার্তা

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনাজপুরে মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। দিনাজপুর জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, ধর্মীয় প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের বাসুনিয়াপট্টি মন্দির প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে দিনাজপুর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী বিভাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, “শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও শিক্ষা মানবজাতির জন্য এক অনন্য আলোকবর্তিকা। তিনি ন্যায়, ধর্ম, প্রেম ও ভক্তির মূর্ত প্রতীক। জীবনের সংকটময় মুহূর্তে তিনি আমাদের সাহস, সত্য ও আত্মবিশ্বাসের পথ দেখিয়েছেন। ভক্তদের প্রতি তাঁর অটল প্রেম ও করুণা আজও সকলের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা জাগায়। তিনি আরো বলেন, পবিত্র গীতার প্রত্যেকটি কথা আমাদের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে।”

সভায় জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চক্রবর্তী তপনের সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা চিত্ত ঘোষের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. বিকাশ চন্দ্র সরকার, বাসুনিয়াপট্টি দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি ডা. শান্তনু বসু, কাহারোল উপজেলার বিমলেন্দু বসাক এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট জেলা শাখার আহ্বায়ক উত্তম কুমার রায়।

ছবি: পল্লীবার্তা

আলোচনা শেষে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী বিজয়ীদের মাঝে সনদপত্র ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত-পুন্যার্থী অংশ নেন।

এর আগে কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩ টায় বাসুনিয়াপট্টি মন্দির প্রাঙ্গনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী বিভাত্মানন্দ মহারাজ। উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি এবং রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অজয় চ্যাটার্জী। এ সময় দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু, চিকিৎসক রামানন্দ বসাকসহ গনমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এতে ব্রাহ্মণ সংসদ ও হরিজন সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠন নিজ নিজ ব্যানারে অংশ নেয়। ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র ও নামসংকীর্তনের তালে পুরুষ ও নারীদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব, পুলিশ ও ডিবি সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তায় মোতায়েন রাখা হয়।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ বেশ জাঁকজমকভাবে জন্মাষ্টমী উদযাপন করলেও এবছর সম্প্রতি নদীতে ডুবে নিহত স্থানীয় তরুণ স্বাক্ষর কুন্ডু টয়ের স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ কর্মসূচি কিছুটা সংক্ষিপ্ত করা হয় এবং শোভাযাত্রার পূর্বে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd