• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ

যেখানে কলমের কণ্ঠ রুদ্ধ, সেখানে স্বাধীনতার আকাশও মলিন

খাদেমুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক / ১৬ জন দেখেছেন
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

যেখানে কলমের কণ্ঠ রুদ্ধ, সেখানে স্বাধীনতার আকাশও মলিন-দিনাজপুরে সংবাদপত্রের কালো দিবসের প্রত্যয়।

ইতিহাসের কিছু দিন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় লেখা থাকে না; তারা রক্তক্ষরণ করে জাতির স্মৃতির গভীরে।  ১৬ জুন তেমনই এক দিন—যে দিন স্বাধীন শব্দের ডানা ছেঁটে দেওয়ার বেদনা ইতিহাসের বুকে কালো অক্ষরে লেখা হয়েছিল।

সত্যের সন্ধানী কলম, মানুষের ন্যায়বিচারের ভাষা এবং সমাজের বিবেক হিসেবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যুগে যুগে গণতন্ত্রের শ্বাস-প্রশ্বাসকে সচল রেখেছে। আর যখনই কোনো স্বৈরশক্তি মানুষের চিন্তা ও সত্যের আলোকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করতে চেয়েছে, তখনই প্রথম আঘাত নেমে এসেছে কলমের ওপর।

সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) অধিভুক্ত সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।

সভায় সহ-সভাপতি ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ও সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সভাপতি সাদাকাত আলী খান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার আকাশে নেমে এসেছিল এক অন্ধকার ছায়া। মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে অন্যান্য সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত হয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন রূপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে; সত্যের কণ্ঠরোধ কখনো একটি মুক্ত সমাজের পথ হতে পারে না। তিনি সকল বন্ধ গণমাধ্যম পুনরায় চালুর দাবি জানান।

সাধারণ সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম রিপন বলেন, “সংবাদপত্র শুধু কাগজে মুদ্রিত কিছু শব্দ নয়; এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিবিম্ব, সমাজের মুখচ্ছবি এবং গণতন্ত্রের সতর্ক প্রহরী।” তিনি বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি অন্ধকার অধ্যায় সাক্ষ্য দেয়—স্বৈরাচারের প্রথম ভয় থাকে মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন কলমকে ঘিরে। তাই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অর্থ সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন, “কলমকে শিকল পরিয়ে কোনো সভ্যতার অগ্রযাত্রা সম্ভব নয়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমই একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক এবং স্বৈরাচারমুক্ত সমাজ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর।” তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক খান, সদস্য মো. নূর ইসলাম, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. নূর ইসলাম নয়ন, মিজানুর রহমান মিজান, বেলাল হোসেন রাজু, জাহিদ হোসেন, তহমিনা বেগম, লাইছুর রহমান, আসক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুরুল আলমসহ সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বক্তারা দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেন—

“সত্যের আলো কখনো নিভে যায় না। কলমকে বন্দী করার প্রতিটি প্রচেষ্টা একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়। কারণ স্বাধীন মানুষের সমাজে মুক্ত সংবাদপত্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বিবেকের শেষ আশ্রয়।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd