‘ক্রীড়ায় হবে সেতুবন্ধন, করবো বাধা দূরীকরণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সমাজ গঠনে এবং যুব সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়া শুধু বিনোদন নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করে।
দিনাজপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করতে জেলা প্রশাসন সব সময় পাশে থাকবে।
জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর এ কে এম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দিনাজপুরের উপ-পরিচালক রওনকুল ইসলাম, জেলা ক্রিকেট কোচ আনোয়ারুল ইসলাম সুমি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমান জেলা প্রশাসক অত্যন্ত ক্রীড়াবান্ধব। দিনাজপুরের খেলোয়ারদের মানোন্নয়নে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে হবে।
খেলোয়ারদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মো. নাহিদ ইসলাম, হুমায়ন কবীর হিজল, হামজা বিন জামান এবং মো. এহেসান্নুল্লাহ। তারা জেলায় নিয়মিত ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের দাবি জানান। এছাড়া ক্রিকেট কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষার্থীর তুলনায় সরঞ্জামের যে ঘাটতি রয়েছে, তা নিরসনে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
আলোচনা সভার পূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি এবং জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) প্রস্তাবে ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট জাতিসংঘ প্রতিবছর ৬ এপ্রিলকে ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসের পাশাপাশি দিনটিকে ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।