• শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের রাডার গুড়িয়ে দিয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: / ১ জন দেখেছেন
আপডেট : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ সরঞ্জাম গুড়িয়ে দিয়েছে ইরান। জর্ডানে অবস্থিত প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই থাড রাডারটি অকেজো হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। অত্যাধুনিক এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হারানোর কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষায় দৃশ্যমান শূন্যতা তৈরি হলো।

মহাকাশে থাকা বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবি এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই রাডার ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা গেছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত আরটিএক্স করপোরেশনের তৈরি ‘এন/টিপিওয়াই–২’ মডেলের রাডারটি হামলার শিকার হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৩ মার্চ চালানো দুটি পৃথক হামলায় এই ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে পেন্টাগনের চাপে হোয়াইট হাউসে লকহিড ও আরটিএক্সের মতো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশেষজ্ঞ টম কারাকো এটিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বিরাট ধাক্কা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামের মতো স্থান মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সাকুল্যে আটটি থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে, যার প্রতিটির দাম প্রায় ১০০ কোটি ডলার। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট জানান, এটি ইরানের অন্যতম সফল সামরিক অভিযান। রাডারটি বিকল থাকায় আকাশ প্রতিরক্ষার পুরো চাপ এখন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর পড়বে, যার ‘পিএসি–৩’ মজুত ইতিমধ্যেই বেশ কমে এসেছে।

একটি পূর্ণাঙ্গ থাড ব্যাটারি পরিচালনার জন্য সাধারণত ৯০ জন সেনা নিয়োজিত থাকেন এবং এতে ট্রাকে বসানো ছয়টি লঞ্চার ও ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর যুক্ত থাকে। প্যাসিফিক ফোরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম অ্যালবার্কের মতে, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের সরঞ্জাম মোতায়েন রাখা অপরিহার্য। এর আগে সংঘাতের শুরুর দিকে কাতারে স্থাপিত ‘এএন/এফপিএস–১৩২’ মডেলের আরেকটি মার্কিন রাডারও ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত হামলার কারণে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd