
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি রোববার বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বোঝা উচিত যে তিনি একটি ‘শিক্ষণীয় যুদ্ধের’ মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তন ‘সবচেয়ে ভালো ঘটনা হতে পারে।’ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণাও দেন। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী হিসেবে পরিচিত ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড শিগগিরই ওই অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমাদের মধ্যে কোনো চুক্তি না হয়, তবে আমাদের এটির প্রয়োজন হবে। এটি খুব শিগগিরই রওনা হবে।’
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ডেস্ট্রয়ারের একটি বহর আগে থেকেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত মাসে এগুলো সেখানে পাঠানো হয়েছিল।
ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘প্রেসিডেন্টের অযোগ্য’ এবং ‘বেপরোয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন মুসাভি। তিনি বলেন, ট্রাম্প যদি যুদ্ধ করতেই চান, তবে তার ‘আলোচনা’ নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। চলতি মাসের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় শুরু হওয়া পারমাণবিক কূটনীতির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে সর্বশেষ পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে এই কূটনৈতিক তৎপরতা বন্ধ ছিল। উত্তেজনা কমাতে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো পুনরায় সচল করতে তুরস্ক ও অন্যান্য আঞ্চলিক রাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যস্থতা করেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত-রাভানচি রোববার এক সাক্ষাৎকারে জানান, আলোচনার পরবর্তী পর্ব মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, পরমাণু সমস্যা সমাধানে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনকে তাদের প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তারা যদি আন্তরিক হয়, তবে আমি নিশ্চিত যে আমরা একটি চুক্তির পথে এগিয়ে যাব।’