• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
নাট্যলোকের নক্ষত্র-কাজী বোরহান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন কাহারোলে বাল্য বিবাহে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রংপুরে তথ্য অধিকার বিষয়ক অংশীজন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে “আমরা জুলাই যোদ্ধা” সংগঠনের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত  দিনাজপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের বার্ষিক কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র অবস্থান কর্মসূচি এফপিএবি দিনাজপুর শাখা কার্যালয় ‘মেডিসিন কর্ণার’ উদ্বোধন দিনাজপুরে জিয়া মঞ্চের প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত ৫ দিনেও খোঁজ মেলেনি নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের রিহ্যাব সেন্টারের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পাবে প্রতিবন্ধীরা-ইউএনও মোকলেদা খাতুন

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে ওআইসি ও আরব লিগের তীব্র নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: / ১৫৬ জন দেখেছেন
আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ওআইসি ও আরব লিগের লোগো

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি সম্প্রতি ইসরায়েলি ভূখণ্ড সম্প্রসারণ নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এবং আরব লিগ। শনিবার সংস্থা দুটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং তা ধর্মীয় ও জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।

গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি পডকাস্টে হাকাবি দাবি করেন, নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বাইবেলীয় অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা (ইসরায়েল) যদি এর পুরোটাই নিয়ে নেয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।’

মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গান এবং ‘ঈশ্বরের ইচ্ছায়’ এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে যাওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করেন। সাক্ষাৎকারে হাকাবি যখন মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশের ওপর ইসরায়েলের ঐশ্বরিক অধিকারের দাবি করেন, তখন কার্লসন জানতে চান, ‘আপনি কোন ভূখণ্ডের কথা বলছেন?’ বাইবেলে উল্লেখিত ‘মিশরের নদী’ বা রিভার অব ইজিপ্ট নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ একে সিনাই উপদ্বীপের একটি নদীখাত মনে করেন, আবার কেউ নীল নদকে নির্দেশ করেন। এর জবাবে হাকাবি নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অধিকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা যদি পুরোটাই নিয়ে নেয়, তবে ঠিক আছে।’

ওআইসি এক বিবৃতিতে হাকাবির এই মন্তব্যকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি দখলদার শক্তি ইসরায়েলের সম্প্রসারণ এবং আরও ফিলিস্তিনি ও আরব ভূখণ্ড দখলের এক অগ্রহণযোগ্য আহ্বান। ওআইসি আরও জানায়, এই মন্তব্যটি ‘মিথ্যা ও প্রত্যাখ্যাত ঐতিহাসিক এবং মতাদর্শগত বয়ানের’ ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক শিষ্টাচার, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের চরমপন্থী বক্তব্য উগ্রবাদকে উসকে দেবে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব, বসতি সম্প্রসারণ ও সংযোজনের প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করবে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ ‘পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।’ ওআইসি ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি তাদের অটুট সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে।

অন্যদিকে আরব লিগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত হাকাবির দাবির নিন্দা জানিয়ে একে কূটনীতির মৌলিক নীতি ও মানের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দাপ্তরিক নীতি ও অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি মূলত ইসরায়েলের ডানপন্থী দর্শকদের খুশি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এ ধরনের চরমপন্থী বক্তব্যের কোনো আইনি বা রাজনৈতিক ভিত্তি নেই এবং এটি ধর্মীয় ও জাতীয় অনুভূতিকে উসকে দেয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করা হলো যখন দেশগুলো গাজা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের উপায় খুঁজতে এবং একটি গুরুতর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর সুযোগ কাজে লাগাতে একত্রিত হচ্ছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নাম ঘোষিত হাকাবি একজন ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান। তিনি এর আগেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ‘ঐশ্বরিক অধিকার’ বা ডিভাইন রাইটের ভিত্তিতে সম্প্রসারণবাদী দাবির কথা বলেছিলেন। গত আগস্টে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংবাদমাধ্যম আই২৪-কে বলেছিলেন, তিনি ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর ইসরায়েলের দর্শনের সঙ্গে ‘গভীর টান’ অনুভব করেন। তিনি নিজেকে ‘এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক মিশনের’ অংশ মনে করেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘ইহুদিদের সেই প্রজন্ম যারা এখানে আসার স্বপ্ন দেখেছিল এবং আমাদের পরে যারা আসবে।’

ইসরায়েলি রাজনীতিতে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর ইসরায়েল বলতে পশ্চিম তীর, গাজা এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমি অন্তর্ভুক্ত করে ইসরায়েলের ভূখণ্ড সম্প্রসারণকে বোঝানো হয়; কিছু ব্যাখ্যায় এতে মিশরের সিনাই উপদ্বীপ এবং জর্ডানের কিছু অংশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd