মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানে স্থলসেনা মোতায়েন করার বিষয়টি তিনি নাকচ করছেন না। ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা তৃতীয় দিনে গড়ালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর সবচেয়ে শক্তিশালী হামলাগুলো এখনও বাকি।
নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের মতো আমি আগেভাগেই বলছি না যে ইরানে কোনো স্থলসেনা পাঠানো হবে না। যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমি অবশ্যই তা বিবেচনা করব।’
সিএনএনকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, বর্তমানে চলমান অভিযান বেশ ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা এখনও তাদের ওপর বড় ধরনের আঘাত শুরু করিনি। মূল হামলাটি এখনও বাকি, যা খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।’
ট্রাম্পের মতে, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আরব প্রতিবেশীদের ওপর ইরানের পাল্টা হামলা। তিনি দাবি করেন, এই দেশগুলো আগে খুব সামান্যই যুক্ত হতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন তারা নিজেরাই লড়াইয়ে অংশ নিতে জোর দিচ্ছে।
অভিযানে নিহতের সংখ্যা সংশোধন করে ট্রাম্প বলেন, এখন পর্যন্ত ইরানের ৪৯ জন নেতা নিহত হয়েছেন। সামরিক হামলার পাশাপাশি ইরানি জনগণকে সক্রিয়ভাবে সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেন। এছাড়া ইরানিদের নিজ দেশ পুনর্দখলেরও আহ্বান জানান তিনি।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত চারজন মার্কিন সেনা নিহত এবং ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশে অভিযানের সহায়তায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি বা ভুলবশত নিজেদের গুলিতে (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন।-লাইভ ২৪ নিউজপেপার