“সমৃদ্ধির পথে নারীর শক্তি, একতা ও সততার প্রতীক”এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম,সমৃদ্ধি যুব মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর আয়োজনে এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ১৫টি স্টলে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা অংশ নেন। এসব স্টলে তাদের হাতে তৈরি পোশাক, সেলাই ও হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল ও ব্যবহারিক পণ্য প্রদর্শন করা হয়।
উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য দেখতে এবং তাদের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত হন।
নারী উদ্যোক্তারা জানান, নিজেদের দক্ষতা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে তারা ঘরে বসেই বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছেন। কেউ সেলাইয়ের কাজ, কেউ হস্তশিল্প আবার কেউ ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসার মাধ্যমে আয় করছেন। এতে পরিবারে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিজেদের আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়ছে। তবে পুঁজি, প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো হলে তারা আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন বলে জানান উদ্যোক্তারা।
উদ্যোক্তা নুসরাত জাহান বলেন, নারীদের তৈরি পণ্য শুধু আয়-রোজগারের মাধ্যম নয়, এটি নারীদের আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বিতা বাড়ানোরও একটি কার্যকর পথ। স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার ও বাজার তৈরি করা গেলে আরও অনেক নারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বেকারত্ব কমাতেও এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাসান, জেলা সমবায় কর্মকর্তা হরেকৃষ্ণ বর্মণ, ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম, উদ্যোক্তা নুসরাত জাহান, আজমিরা পারভীন ও শিরিন শাপলাসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ, পণ্য প্রদর্শনী ও বিভিন্ন সহায়ক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।