দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানি করা হবে। পাশাপাশি দেশীয় উৎস থেকেও আরও প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন সরবরাহ পাওয়া যাবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, দেশের মাসিক অকটেন চাহিদা যেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে চলমান সরবরাহ ব্যবস্থায় অন্তত দুই মাসের অতিরিক্ত মজুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও বাংলাদেশ আগাম প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক আমদানির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও দেশে তা সমন্বয় করা হয়নি। বর্তমানে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ১০০ টাকা হলেও প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১৯৮ টাকা। অকটেনের ক্ষেত্রেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে মূল্য স্থিতিশীল রেখেছে।
তিনি বলেন, মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে শুধু ডিজেলেই ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। অকটেনের জন্য প্রয়োজন হবে আরও ৬৩৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই সময়ে মোট ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা হতে পারে।
এ ছাড়া এলএনজি আমদানিতেও বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে এ খাতে প্রায় ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার সংকটের সময়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রেখেছে। কারণ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলে কৃষি, পরিবহনসহ সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়।
মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, বৈশ্বিক চাপ থাকলেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা নিশ্চিত রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। -লাইভ ২৪ নিউজপেপার