• সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ!

প্রযুক্তি ডেস্ক / ১১৪ জন দেখেছেন
আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

জার্মানির ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির নীতিমালার একটি খসড়ায় বয়সের ওপর ভিত্তি করে তিনটি স্তরের নিয়ম চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে পরিচয় নিশ্চিত করতে ‘ইইউডিআই ওয়ালেট’ (EUDI Wallet) ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

ব্যবসায়িক দৈনিক হ্যান্ডেলসব্ল্যাট-এর এক প্রতিবেদনে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়। এসপিডির ওই নীতিমালায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মগুলো প্রযুক্তিগতভাবে এই বয়সীদের প্রবেশ ঠেকাতে বাধ্য থাকবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আদেশ, কঠোর জরিমানা এবং শেষ পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িক বিধিনিষেধ বা নেটওয়ার্ক ব্লক করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি বাধ্যতামূলক ‘ইয়ুথ ভার্সন’ বা কিশোর সংস্করণ চালুর কথা বলা হয়েছে। এই সংস্করণে আসক্তি বাড়ায় এমন কোনো ফিচার, যেমন—বিরামহীন স্ক্রলিং (endless scrolling), স্বয়ংক্রিয় ভিডিও প্লে হওয়া বা টানা ব্যবহারের জন্য কোনো পুরস্কার ব্যবস্থা থাকবে না। এছাড়া অ্যালগরিদম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নিউজ ফিডও এতে থাকবে না এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট প্রদর্শন করা যাবে না।

এসপিডির নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সীরা কেবল তাদের বাবা-মা বা অভিভাবকের ‘ইইউডিআই ওয়ালেট’ অ্যাপের মাধ্যমে ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করতে পারবে। এই ইইউডিআই ওয়ালেট (ইউরোপিয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি ওয়ালেট) হলো এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা, যেখানে অভিভাবকের পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকসহ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যালগরিদম-ভিত্তিক সুপারিশ ব্যবস্থা বা রেকমেন্ডেশন সিস্টেমটি ডিফল্ট হিসেবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা যদি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কনটেন্ট দেখতে চান, তবে তাদের সচেতনভাবে এবং সক্রিয়ভাবে সেটি চালু (অপট-ইন) করতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই বয়সীদেরও সেবা ব্যবহারের আগে ইইউডিআই ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

ইন্টারনেটের স্বাধীনতার বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়েছেন এসপিডি চেয়ারম্যান ও ভাইস চ্যান্সেলর লার্স ক্লিংবেইল। জার্মান প্রেস এজেন্সিকে (ডিপিএ) তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমরা সবাই ইন্টারনেটের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে কোনো বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়। কিন্তু এখন বিতর্কের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে সমাজে কিছু একটা ঘটছে। তরুণরা আমার কাছে এসে বলছে, সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট নিয়ম দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের বিধিনিষেধ প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’-লাইভ ২৪ নিউজপেপার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd