
দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিরোধের পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন প্রত্যয়ের দোরগোড়ায়—এমন দৃঢ় বিশ্বাসের কথা জানালেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “অনেক পরিশ্রম করে আমরা স্বৈরাচারকে হটিয়েছি। এবারের শপথ হবে দেশ গড়ার শপথ, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের শপথ এবং রাষ্ট্র পুনঃনির্মাণের শপথ।”
রোববার বিকেলে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, “দিনাজপুর জেলা ধানের জন্য বিখ্যাত। এই জেলা আমার নানীর জন্মস্থান। আমি আমার নানীর দেশে আপনাদের কাছে এসেছি—ধানের শীষে ভোট চাইতে।” আবেগঘন এই বক্তব্যে মুহূর্তেই সমাবেশ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উচ্ছ্বাস ও সাড়া।
তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে এমন এক রাষ্ট্র—যেখানে মা-বোনেরা রাতের বেলায় নিরাপত্তার সঙ্গে চলাফেরা করতে পারবে, যেখানে প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে নিজের কাজ ও জীবিকা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। ধর্ম নয়, পরিচয় নয়—মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। “হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—এই বিভাজনে নয়; যোগ্যতাই হবে আগামীর বাংলাদেশের একমাত্র মাপকাঠি,”—বলেন তিনি।
দিনাজপুরের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “দিনাজপুরের লিচু শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়েই বিখ্যাত। এখানকার সুগন্ধি চাল জগৎবিখ্যাত।” তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে দিনাজপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই—যে বাংলাদেশের জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। আমরা ফিরে যেতে চাই সেই বাংলাদেশে—যার আকাঙ্ক্ষা আবার নতুন করে জেগে উঠেছিল জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।”
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর ডক্টর এ. জেড. এম. জায়েদ হোসেন। তিনি বলেন, দিনাজপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার অবসান ঘটাতে হলে একটি জনগণের সরকার প্রয়োজন। তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপরেখা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে মানুষের কাছে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোকাররম হোসেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানসহ নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর ও বিরামপুর উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বক্তিয়ার আহমেদ কোচির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে বিরামপুর কলেজ মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। স্লোগান, করতালি আর পরিবর্তনের প্রত্যাশায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।