
ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে একটি বিমান দুর্ঘটনায় এনসিপি প্রধান ও মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার মারা গেছেন। এই দুর্ঘটনায় পাইলট এবং পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মীসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সকাল ৮টার দিকে মুম্বাই থেকে যাত্রা করা ছোট বিমানটি ৪৫ মিনিট পরে বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থলে আগুন লেগে যায় এবং বিমানটি পুরো দুমড়ে-মুচড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, বিমানটিতে থাকা পাঁচজন যাত্রীই মারা গেছেন।
অজিত পাওয়ার জেলা পরিষদ ইলেকশনের আগে চারটি জনসভায় যোগ দিতে বারামতির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। ঠিক সে সময়ই এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছিল এবং কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
৬৬ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনীতিবিদ অজিত পাওয়ার। তিনি এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের ভাগ্নে এবং লোকসভা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের চাচাতো ভাই। সংসদের বাজেট অধিবেশনের জন্য শরদ পাওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলে শীঘ্রই পুণেতে যাওয়ার কথা ছিল।
রাজনৈতিক জীবনে, ২০২৩ সালে অজিত পাওয়ার এনসিপিতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা দলকে দুই ভাগে ভাগ করে। এক ভাগ ছিল তার নেতৃত্বে এবং অন্য ভাগ ছিল তার চাচা শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বে। পরে তিনি এনডিএ সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন। তবে সম্প্রতি এনসিপি পুনর্মিলনের কথা বলা হচ্ছিল এবং দুই গোষ্ঠী একসঙ্গে পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
ঘটনাক্রমে, বিধ্বস্ত বিমানটি ভিএসআর সংস্থা পরিচালিত লিয়ারজেট-৪৫ মডেলের একটি বিমান ছিল। এই একই ধরনের একটি বিমান আগেও, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, মুম্বাইতে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এনসিপি নেতৃত্ব, পাওয়ার পরিবার এবং মহারাষ্ট্র সরকার এখনও এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।- সময়ের আলো