• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ

ল্যাংগুয়েজ ট্রেনিং, লিটারেচার এন্ড কালচারাল উৎসবে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

আজহারুল আজাদ জুয়েল, ঢাকা থেকে : / ২৪ জন দেখেছেন
আপডেট : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, মাতৃভাষা ছাড়া মেধার চর্চা ও বিকাশ ঘটানো সম্ভব নয়।

প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ল্যাংগুয়েজ ট্রেনিং, লিটারেচার এন্ড কালচারাল উৎসব ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন, মানুষের মুক্তি ও অগ্রগতির প্রধান উৎস হল মাতৃভাষা। মাতৃভাষার জন্য আমাদের জাতি প্রাণ দিয়েছে যা বিশ্বে অনন্য নজির হয়ে আছে। মাতৃভাষা ছাড়া মেধা বিকাশ ও জাতীয় অগ্রগতি সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের দুঃখ যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গবেষক তেমন একটা নেই।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মাতৃভাষা বিষয়ে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনের কারণে রাষ্ট্রকে যেমন মাঝে মাঝে আইন সংস্কার করতে হয়। ভাষারও সংস্কার করা দরকার। অনেকেই আছেন সংস্কারের বিপক্ষে থাকেন। কিন্তু সরকার ব্যতীত কোন কিছুই এগিয়ে নেয়া সম্ভব না। তাই এই বিষয়গুলো গবেষকদের ভাবতে হবে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান এর সভাপতিত্তে অনুষ্ঠিত উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ভাষা আমাদের অস্তিত্বের অংশ। শিল্প ও সাহিত্য আমাদের দর্পণ। মাতৃভাষার চর্চা ব্যতীত শিল্প সাহিত্যকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি পরিশিলিত ভাষা চর্চার মাধ্যমে মুক্তির সর্বোচ্চ ত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক কালে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কারো সমালোচনা করতে গিয়ে অশ্লীল শব্দ ও বাক্য প্রয়োগে মাধ্যমে যা করা হচ্ছে তা আমাদের মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিচ্ছে। এভাবে কারো সমালোচনা করা সঠিক নয়। আমাদের শিষ্টাচার থাকতে হবে। জীবনকে সুন্দর ও মাধুর্যময় করতে শিষ্টাচার জরুরি। ফেসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই অশ্লীল শব্দ বাক্য প্রয়োগ করছে । এটা কাম্য হতে পারে না। মনে রাখা দরকার একটি শব্দের কারণে বিগত সরকারের পতন হয়েছে। কাজেই শব্দ উচ্চারণে, বাক্য প্রয়োগে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সাহিত্য চর্চায় তরুণদের আগ্রহী করতে হবে। শুদ্ধ বাংলায় বলা ও লেখার অভ্যাস করতে হবে। গান, নাট্য চর্চার মাধ্যমে সাহিত্যের বিকাশ ঘটাতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক ছিলেন সাভারের পঙ্গু হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র- সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভেলেরি এন টেলর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এর পরিচালক ড. ইয়াং হুই, সাবেক সচিব ও কবি অ্যাডভোকেট গরিব নেওয়াজ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য বিষয়ক সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র এর পরিচালক ড. অশোক বিশ্বাস প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি মোঃ শামসুল হক বাবু, এম মিরাজ হোসেন আফরোজা খানম তন্দ্রা প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সবুজ। বান্দরবান এর তনয়া ম্রো পবিত্র বাইবেল, কবি হরিপদ সরকার পবিত্র গীতা এবং প্রকাশ বড়ুয়া পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ করেন। এরপর সমবেতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ভাষা ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়, ভাষা মুক্তি দেয়, ভাষা একটা শক্তি। তাই ভাষা নিয়ে আমাদেরকে অবশ্যই ভাবতে হবে এবং চিন্তা করতে হবে কিভাবে আমরা ভাষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

দিনাজপুর লেখক ফোরামের সভাপতি আজহারুল আজাদ জুয়েল সহ দেশের গণ্যমান্য লেখক, কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মী এবং পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত সাংস্কৃতিক কর্মী লেখক ও গবেষকদের আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল এই অনুষ্ঠানে । কনফুশিয়াস ইনস্টিটিউট এর চিনা শিক্ষার্থীগন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাংলা গান পরিবেশন করেন যা উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে। কলকাতার একজন শিল্পী পরিবেশন করেন রবীন্দ্র সংগীত। এছাড়া কবি নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি করেন একটি সংগঠনের শিশু শিল্পীরা যা দর্শকদের মুগ্ধ করে। উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত দাগ গ্লোবাল ম্যাগাজিন এর মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। সামগ্রিক ভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন প্রকাশ বড়ুয়া ও জীবন নেছা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd