দিনাজপুরে দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথর ও শ্বেত পাথরের ৩টি মূর্তি উদ্ধার বিজিবি। এসময় ২ জনকে আটক করেছে তারা।
গেল শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানিয়েছে,দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ০৭০০ ঘটিকা পর্যন্ত দিনাজপুর জেলার বিরল ও ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর এলাকায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এবং ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ২ জন আসামিকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ৯.৫৪ কেজি ওজনের দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের ১টি মূর্তি (বিষ্ণু) এবং ৪৫.৩৭ কেজি ওজনের মূল্যবান শ্বেত পাথরের ১টি মূর্তি (শিব) উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর এলাকার জগদীশ চন্দ্র এর ছেলে শ্রী সুমন চন্দ্র দেব (৩০) ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর এলাকার মৃত আবু সাঈদের ছেলে মোঃ আব্দুল হাই (৬৫)।
পরবর্তীতে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৩.৮৫ কেজি ওজনের দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের ১টি মূর্তি (শিব লিঙ্গ) উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুসমূহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়, রংপুর বিভাগ, রংপুর এর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) ‘‘পুরাকীর্তি সংরক্ষিত আইন’’ অনুযায়ী দেশ ও জাতির প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য বহন করে এ জাতীয় সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকার তথা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপর ন্যস্ত।
উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তি ও শ্বেত পাথরের মূর্তির মোট সিজার মূল্য ৬৬ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় মূর্তি সমূহের মূল্য অসীম ও অপরিমেয়। আটককৃত আসামি এবং আলামত সমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর সদস্যরা সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।