• মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

আমেরিকা-ইসরাইল-ইরান উত্তেজনায় পারমাণবিক মহাপ্রলয়

খাদেমুল ইসলাম, দিনাজপুর / ৫৯ জন দেখেছেন
আপডেট : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

আমেরিকা-ইসরাইল-ইরান উত্তেজনায় পারমাণবিক মহাপ্রলয়। নীলকণ্ঠ পৃথিবীর বিষপান ও বিপন্ন ভবিতব্য।

একটি শান্ত দুপুর, হঠাৎ দিগন্ত জুড়ে হাজারো সূর্যের প্রখরতা নিয়ে জেগে উঠল এক পৈশাচিক অগ্নিপিণ্ড। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নিভে গেল কোটি প্রাণ, ছাই হয়ে গেল ইতিহাস। কোনো কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়, বরং আমেরিকা-ইসরাইল-ইরান উত্তেজনার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি আমাদের অতি নিকটের এক রূঢ় বাস্তবতা। আধুনিক সভ্যতার দর্পণে আজ পারমাণবিক ধ্বংসলীলার যে প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছে তার।
ধ্বংসের ব্যবচ্ছেদ:
এই ধ্বংসের মূল কারিগর নয়টি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল ও উত্তর কোরিয়া)। তাদের আঙুলের ডগায় থাকা ‘নিউক্লিয়ার ব্রিফকেস’ আজ পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা ও ‘সুট’ (soot) জমা হবে, তা সূর্যকে ঢেকে দেবে। ফলে শুরু হবে ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’। পৃথিবী হয়ে উঠবে এক তুষারশীতল কবরস্থান।
প্রসঙ্গ ইসরাইল আমেরিকা ইরান যুদ্ধ:
বর্তমানের রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য। ইরান-ইসরাইল সংঘাতের বারুদ যদি পারমাণবিক স্ফুলিঙ্গে রূপ নেয়, তবে তার আঁচ লাগবে নিউইয়র্ক থেকে নড়াইল—পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে।
 বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বলছে, আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি।
ক্ষমতার দম্ভ, ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য এবং একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করার আদিম নেশাই এই মারণাস্ত্র জমানোর মূল কারণ। একে বলা হয় ‘ডিটারেন্স’ বা ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি।
কিভাবে (How): একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্ত বা যান্ত্রিক ত্রুটি ট্রিগার করতে পারে হাজারো ক্ষেপণাস্ত্রকে। এর ফলে ওজোন স্তর ধ্বংস হবে, বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে এবং মানুষের ডিএনএ-তে স্থায়ী বিকৃতি ঘটবে।
মৃত্যু-সরঞ্জামের খতিয়ান:
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা কেবল সংখ্যা নয়, বরং এগুলো একেকটি প্রলয়ের পাণ্ডুলিপি। বর্তমানে প্রায় ১২,১৪১ থেকে ১৩,০০০টি পারমাণবিক বোমা বিশ্বের ভাণ্ডারে মজুদ রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যার বর্ণনাটি কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং মানবিক ব্যর্থতার এক মহাকাব্য।
রাশিয়া ও আমেরিকার দ্বৈরথ: বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দুই দেশের দখলে। রাশিয়ার ভাণ্ডারে রয়েছে প্রায় ৫,৪৫৯টি বোমা, আর আমেরিকার কাছে ৫,১১৭টি। এই দেশ দুটির প্রতিটি বোমাই হিরোশিমায় ফেলা বোমার চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী। তারা একে অপরের ওপর ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক’ বা পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা বজায় রাখতে এই বিশাল পর্বতসম অস্ত্র জমা করেছে।
এশিয়ার উদীয়মান ঝুঁকি: চীন বর্তমানে দ্রুতগতিতে তাদের ভাণ্ডার বাড়াচ্ছে, যার সংখ্যা এখন ৬০০ ছুঁইছুঁই। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত (১৮০) এবং পাকিস্তান (১৭০) একে অপরের দিকে মুখ করে রেখেছে তাদের পারমাণবিক মিসাইল। উত্তর কোরিয়া তার ৫০টি বোমার পরীক্ষা চালিয়ে প্রতিনিয়ত জানান দিচ্ছে তাদের অস্তিত্বের কথা।
মধ্যপ্রাচ্যের রহস্যময় শক্তি:
ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো স্বীকার না করলেও, বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে তাদের কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতায় এই ৯০টি বোমাই পুরো অঞ্চলের মানচিত্র বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
 বৈপরীত্যের করুণ রস: 
গবেষকদের দাবি, পৃথিবীকে বাস অযোগ্য করতে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০টি বোমাই যথেষ্ট। অথচ আমাদের হাতে আছে তার চেয়ে ৫০ গুণ বেশি মারণাস্ত্র। এটি এক অদ্ভুত ট্র্যাজেডি—মানুষ এমন এক বিষ তৈরি করেছে যা তাকে একবার নয়, বরং পঞ্চাশবার মেরে ফেলার ক্ষমতা রাখে।
উপসংহার:
আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে শান্তির চেয়ে যুদ্ধের আয়োজন বেশি সুসংগঠিত। তেরো হাজার বোমার এই মৌন মিছিল আসলে আমাদের বিবেকের পরাজয়। এই প্রতিবেদন কেবল তথ্য নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা। কারণ পারমাণবিক যুদ্ধে কোনো জয়ী পক্ষ থাকে না; সেখানে কেবল ছাই আর দীর্ঘশ্বাস অবশিষ্ট থাকে। নীলকণ্ঠ পৃথিবী হয়তো একদিন সব বিষ শুষে নেবে, কিন্তু তখন সেই পৃথিবীতে কোনো মানুষের পদচিহ্ন থাকবে কি না, তা আজ বড় প্রশ্ন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd