বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে একটি রাজনৈতিক দল রয়েছে, যাদের জনগণ ‘গুপ্ত পরিচয়ে’ চেনে। সেই গুপ্ত সংগঠনের লোকজনই এখন নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যে দলের নেতারা মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না, তাদের কাছ থেকে মানুষের আত্মমর্যাদা ও ন্যায়ের প্রত্যাশা করা যায় না।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার নির্বাচন করবে। জনগণের মতামতের বাইরে গিয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ আর থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বরিশাল অঞ্চলের সমস্যার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সংকট নদীভাঙন। স্থায়ী সমাধানের জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি।
তিনি বলেন, এখানে অনেক উন্নয়নকাজ অসম্পূর্ণ পড়ে আছে। এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির শাসনামলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প শুরু হয়েছিল, যা নানা কারণে শেষ করা যায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাগুলো আরও জমেছে। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এসব সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নারীদের ঘরে বন্দী করে রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নারী ও পুরুষকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তবেই একটি প্রত্যাশিত ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।
সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে ভোর থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমান দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম-সব অঞ্চলে নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলায় জেলায় জনসভায় বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকার ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে নারী ও তরুণদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।-২৪ লাইভ