• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

জাতীয় ডেস্ক / ২৬০ জন দেখেছেন
আপডেট : শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাংলাদেশের, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর দিন। একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দিনে আলবদর, আলশামস-এর সন্ত্রাসীরা বেছে বেছে হত্যা করেছে বাংলাদেশের রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা অঙ্গনের শ্রেষ্ঠ মানুষদের।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে ডিসেম্বর মাসের মধ্যভাগে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণে চারদিকে যখন পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত হয়েছিল ঠিক তখনই দেশীয় দোসরদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে দেশকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা করে। ওই পরিকল্পনার নীলনকশা অনুযায়ী চালায় নির্মম হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ হারিয়েছিল তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে একাত্তরে আলবদর ও আলশামস বাহিনী গঠন করা হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর আলবদর ও আলশামস-এর সশস্ত্র সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের তাদের বাসভবন থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের হত্যা করা হয়। এ দু’টি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত। মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০-১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।

আলবদর ও আলশামস বাহিনী এভাবে মুনীর চৌধুরী, গোবিন্দ চন্দ্র দেব, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুর, সন্তোষ ভট্টাচার্য, শহীদুল্লা কায়সার, সিরাজুদ্দিন হোসেন, আবুল খায়ের, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, মনিরুজ্জামান, আনোয়ার পাশা, নিজাম উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মোস্তফা, রশিদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, ডা. আলীম উদ্দিন, ডা. ফজলে রাব্বি, সায়েদুল হাসান, নাজমুল হক, আবুল বাশার, খন্দকার আবু তালেব, ডা. আমির উদ্দিন প্রমুখ বুদ্ধিজীবীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এছাড়া আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে তুলে নিয়ে যায় হানাদার পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা। যাদের অনেকের খোঁজ কোনো দিন বাঙালি জাতি পায়নি।

মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে পাকিস্তানি বাহিনী। তবে পরাজয়ে বাধ্য হওয়ায় তারা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পুরোপুরি করতে পারেনি। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুইদিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

স্বাধীন দেশে ফিরে এসে বাঙালির বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারেন তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের কাহিনী। তারপর থেকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে আছে মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমিগুলো। প্রতি বছর এইদিনে মানুষ সেসব স্মৃতি স্থানে গিয়ে মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানায় শহীদ শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে প্রতি বছরের মতো এবারও মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শহীদ বুদ্ধিজীবী কৃতী সন্তানদের অবনত চিত্তে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। বিভিন্ন সংগঠনের দিনব্যাপী শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, মৌন মিছিল ইত্যাদি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ পড়ুন
bdit.com.bd