দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর সীমান্তবর্তী এলাকার শীতার্ত অসহায় মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করেছে ২৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের মীরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান। এসময় ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এ এম জাবের বিন জব্বার, সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান, কাজিহাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন কাঞ্চণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেক্টর কমান্ডার বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক, মানব ও অস্ত্র পাচারসহ আন্তঃ সীমান্ত অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে বিজিবি প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা, জীবনদান উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। সীমান্তে শুধু বল প্রয়োগ বা ফোর্স বৃদ্ধি করলেই আন্তঃ সীমান্ত অপরাধ দমন সম্ভব নয়। কেবল সকলের সহযোগিতাই পারে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করতে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাসহ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মানবিক উন্নয়নেও কাজ করছে। দেশের যে কোনও দুর্যোগ ও সংকটময় মূহুর্তে বিজিবি সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। মহাপরিচালক বিজিবি মহোদয়ের মূলনীতি ‘বিজিবি সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক বাস্তবায়নে প্রতিটি বিজিবি সদস্য বদ্ধপরিকর। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের শীতবস্ত্র বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধ সামগ্রী প্রদান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এ মানবিক উদ্যোগ শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। ভবিষ্যতেও বিজিবি এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার আওতাধীন আমড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় ৩০০ জন শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় প্রায় ৬০০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।