
আড়াই শতাধিক কৃষকের আলু নিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা পরিশোধ করছে না এসিআই কোম্পানী। টাকা না দিয়ে কর্মকর্তারা তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।
গেল বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধামইর ইউনিয়নের আলু চাষীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলুচাষী মমিনুল ইসলাম। এ সময় কৃষক আজিজার রহমান, আফজালুর রহমান, তরেন চন্দ্র, রিয়াজুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, চন্দ্রকান্তসহ কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,ধামইর ইউনিয়নে গত মৌসুমে কৃষকদের জমিতে উৎপাদিত আলু ক্রয় করে নিবে মর্মে এসিআই কোম্পানী কৃষকদের সাথে চুক্তি করে। এ জন্য এসিআই কোম্পানী কৃষকদেরকে ৬৪ টাকা কেজি দরে আলু বীজ সরবরাহ করে। কৃষকদের কাছ থেকে জমিতে উৎপাদিত মার্বেল সাইজ,পচা, কাটা,ওভার সাইজ বাদ দিয়ে সব আলু নেয়ার কথা থাকলে এসিআই কোম্পানীর লোকজন তা করেনি। কৃষকদের উৎপাদিত সব আলু ক্রয় করেনি,ফলে আলু নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় কৃষকদেরকে। এরপরও যে পরিমাণ আলু চাষীদের কাছ থেকে নিয়েছে,সেই টাকাও পরিশোধ করা হচ্ছে না। নিয়ম ছিল যে, আলু গ্রহনের ১২-১৫ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে দেয়া হবে। চাষীদের কাছ থেকে আলু নেয়া সমাপ্তি হয় বিগত ২০২৬ ১২ মার্চ। এরপর কৃষকরা এক মাস পরে এসিআই কোম্পানীর অফিসে যোগাযোগ করলে কয়েকদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা বলে। বারবার এমন কথা বলে কোম্পানীর লোকজন সময়ক্ষেপ করতে থাকে।
অবশেষে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে এসিআই কোম্পানীর কর্মকর্তা, যথাক্রমে- নূরে সিদ্দীকি (ডিজিএম, এসিআই কোম্পানী), প্লাবন (ইনচার্জ, এসিআই কোম্পানী), পার্থ সরকার (হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা এসিআই কোম্পানী), আবু তাহের (পরিচালক এসিআই কোম্পানী) তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ২১ মে বৃহস্পতিবার এসিআই কোম্পানীতে গিয়ে দেখতে পান তাদের অফিসে তালা লাগানো এবং তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ। যে বাসায় বসবাস করতেন সেখানে গেলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
এমন ঘটনায় চাষীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে সরকার ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোড় দাবি জানায় কৃষকরা।