Pallibarta.com | যুক্তরাজ্যে জ্বালানি সংকটে দুর্ভোগে কয়েক হাজার বাংলাদেশি - Pallibarta.com

রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

যুক্তরাজ্যে জ্বালানি সংকটে দুর্ভোগে কয়েক হাজার বাংলাদেশি

যুক্তরাজ্যজুড়ে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকট কাটছেই না। বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে এ সংকট বাড়ছে। বিশেষ করে গাড়ি যাদের আয়ের উৎস তাদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

লন্ডনে বসবাসরত সাংবাদিক মাহবুব সুয়েদ বলেন, যুক্তরাজ্যে কমপক্ষে ১০ হাজার ব্রিটিশ বাংলাদেশি জ্বালানি তেলের চলমান সংকটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ইলেক্ট্রিক গাড়ির দাম অনেক বেশি। বেশিরভাগ গাড়িই এখনও জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড বা পেট্রোল-ডিজেলে চালিত। পাম্পগুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল চাহিদা মতো পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ অপর্যাপ্ত থাকায় অন্তত ১০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

লন্ডনের ট্যাক্সি ক্যাব ড্রাইভার হাদি আল আমিন শনিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যুক্তরাজ্যজুড়ে অন্তত এক তৃতীয়াংশ ট্যাক্সি ক্যাব চালক ও ডেলিভারি ড্রাইভার এখনও জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সাইদুল ইসলাম শনিবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, লন্ডনে জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। এখন অনেক পাম্পে তেল মিলছে। সংকট কাটতে সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে সেনাবাহিনীর সাহায্য নিতে পারে সরকার।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ারটেং বলেছেন, ‘প্রয়োজন হলে জ্বালানির জন্য তৈরি হওয়া চাপ কমাতে অস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করে সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সক্ষমতা যোগানো হবে।

সরবরাহজনিত সংকটের কারণে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পাম্পগুলো অনেকটা জ্বালানী শূন্য হয়ে পড়ার হুমকিতে রয়েছে। ফলে আতঙ্কিত চালকরা গাড়ি নিয়ে পেট্রল পাম্পগুলোর দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এতে করে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি প্রথম দিকের অবস্থার মতো না হলেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে অনেক রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে তা পাঠানো যাচ্ছে না চালক সংকটের কারণে। আর এটাই হলো এ সমস্যার মূল কারণ।

সরকার এরইমধ্যে পাঁচ হাজার বিদেশি ট্রাক চালককে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সংকট মোকাবিলায় এই শিল্পের সাবেক চালকদের ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পেট্রোল স্টেশনগুলোতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পাওয়ার কারণে কর্মীকে লাঞ্চিত করার দৃশ্যও উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমগুলোতে। পেট্রোল স্টেশনে তেল নেওয়ার লাইনে একজন ক্রেতা ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাই অনেক জায়গায় দীর্ঘ লাইন নিয়ন্ত্রণে স্টেশনের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পেট্রোল নিয়ে এতো সংকটের মাঝে অনেক ক্রেতা নিজস্ব গাড়ি ছেড়ে ভিড় করছেন পাবলিক ট্রান্সপোর্টগুলোতে। এ ব্যাপারে ট্রান্সপোর্ট অব লন্ডনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর ফলে ট্রেনের যাত্রী সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাসের যাত্রী বেড়েছে দুই শতাংশ। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লন্ডনে। যাত্রী উন্নয়ন সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্টেশনগুলোর সামনে লম্বা লাইন থাকার কারণে লন্ডনের অনেক রাস্তায় যানজট তৈরি হচ্ছে। এছাড়া লন্ডনের বাইরে যেতে টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই লরি চালকের সংকট রয়েছে। অনেক চালকের চলে যাওয়া, করোনা ও ব্রেক্সিটের প্রভাব পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তুলেছে। করোনার কারণে নতুন চালকদেরও ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’ পেতে দেরি হচ্ছে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১