Pallibarta.com | চলন্ত লঞ্চ থেকে চার শিশুকে নদীতে নিক্ষেপ, মুন্সীগঞ্জে মামলা - Pallibarta.com

সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

চলন্ত লঞ্চ থেকে চার শিশুকে নদীতে নিক্ষেপ, মুন্সীগঞ্জে মামলা

ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরগামী ইমাম হাসান-৫ লঞ্চ থেকে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে চার শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে অজ্ঞাতনামা লঞ্চ স্টাফদের বিরুদ্ধে।
চলন্ত লঞ্চ থেকে চার শিশুকে নদীতে নিক্ষেপ, মুন্সীগঞ্জে মামলা

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন মুক্তারপুর নৌপুলিশ স্টেশনের পরিদর্শক মো. লুৎফর রহমান।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব খান জানান, চার শিশুকে লঞ্চ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে। তিনি জানান, মামলার আসামি অজ্ঞাতনামা লঞ্চ স্টাফরা। মামলা তদন্ত করবে মুক্তারপুর নৌপুলিশ স্টেশন।

উদ্ধার হওয়া দুই শিশু হচ্ছে- মেহেদুল হাসান (১৩) ও সাকিব হাসান (১৩)। ঘাটে পাওয়া অপর দুই শিশুদের মধ্যে রয়েছে তারিকুল ইসলাম (১০) ও সিয়াম (১৩)।

সাকিব নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার আবুল কাশেমের ছেলে, মেহেদুল গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার চানপুর গ্রামের মো. শরীফের পুত্র, সিয়াম কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার খামার বদুয়া গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে এবং কুমিল্লা জেলার মুন্সীরহাট গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পুত্র তরিকুল। তারা ঢাকার সদরঘাট এলাকায় থাকেন। লঞ্চে পানি বিক্রি ও বোতল সংগ্রহের কাজে জড়িত।

গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সীমানাধীন উত্তাল মেঘনা নদীতে শিশুদের ফেলে দেওয়ার নির্মম ঘটনাটি ঘটে। তবে ভালো সাঁতার জানা এবং আশপাশের লোকজনের সহায়তায় বেঁচে যায় ওই চার শিশু।

গজারিয়া থানার ওসি মো. রইছ উদ্দিন জানান, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে একটি স্পিডবোটে মেঘনা নদীতে অবস্থানকালে দুই শিশুকে ভাসতে দেখে এগিয়ে গিয়ে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে নিয়ে যাই। এরপর ঢাকা-সদরঘাটগামী এমভি আল-বোরাক লঞ্চে উঠিয়ে দেওয়া হয়। ভাড়ার টাকা না থাকায় লঞ্চের স্টাফরা তাদেরকে মাঝ নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ শিশুদের।

তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুদের লঞ্চঘাটে আনা হলে আরও দুজন শিশুকে টার্মিনালে পাওয়া যায়। এরা উদ্ধার দুই শিশুর সঙ্গে লঞ্চে ছিল। তারা অন্য নৌযানের সহায়তায় ঘাটে আসে। তাদেরও লঞ্চ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে শিশুরা।

ইমাম হাসান-৫ লঞ্চের মাস্টার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, শিশুরা স্বেচ্ছায় নদীতে ঝাঁপ দিলে যাত্রীরা আমাদের অবগত করে। কিন্তু কতজন ঝাঁপ দিয়েছে তা জানি না। বড় বড় লঞ্চগুলো যখন ঘাটগুলোর সামনে দিয়ে যায় তখন স্থানীয় ট্রলারগুলো লঞ্চের গায়ে ভিড়ে। এ সময় যাত্রীরা ওঠানামা করে। মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দুই শিশু ট্রলার দেখতে না পেয়ে কিছুদূর সামনে যাওয়ার পর লাফ দেয়। তারা ভেবেছিল ট্রলার এসে তাদের নিয়ে যাবে। এ লঞ্চ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে নোঙর করে না।

তিনি জানান, তাদের ফেলে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া এসব শিশু পানি বিক্রেতার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয় না। লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ১৫০ ফুট দূর দিয়ে যাচ্ছিল লঞ্চটি। তারা সাঁতরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল বলে দাবি তার।

মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন জানান, শিশুরা লাফ দেওয়ার অনেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা অবগত করেছে। আর মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট অতিক্রম করার সময় কেউই যাত্রীদের থেকে ভাড়া সংগ্রহ করতে আসেনি বলে দাবি তার। তবে মুন্সীগঞ্জ থানার ওসি জানিয়েছেন, মামলার তদন্তেই সব বেরিয়ে আসবে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০