কবি ও গবেষক এবং দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলী ছায়েদ এর লেখা নতুন কাব্যগ্রন্থ 'অস্ত্রহীন যুদ্ধের ম্যানিফেস্টো'র মোড়ক উন্মোচন হয়ে গেল ১৯ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায়।
দিনাজপুর প্রেসক্লাব ও রং পেন্সিল আর্ট একাডেমির সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দিনাজপুর লেখক ফোরাম। ফোরামের সভাপতি গবেষক ও সাংবাদিক আজহারুল আজাদ জুয়েলের সভাপতিত্তে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. শাহনাজ হুসনে জাহান লীনা।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে কবি, গবেষক, লেখক, সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক উত্তর বাংলা সম্পাদক মতিউর রহমান, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ বকশী বাচ্চু, প্রধান অতিথির মাতা কবি জুলেখা উসমানী, প্রফেসর জলিল আহমেদ, প্রফেসর মোজাম্মেল বিশ্বাস, প্রফেসর কামরুজ্জামান গোপন, কবি লুৎফর রহমান, ও উপন্যাসিক লায়লা চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন দিনাজপুর লেখক ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক কবি তুষার শুভ্র বসাক।
অনুষ্ঠানের সূচনায় লেখক ফোরামের পক্ষ হতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন কবি পপি হাসদাক, রীতা হেমব্রম, রাবেয়া খাতুন রানু, পুষ্পিতা রায় ও শ্যামলী মুরমু। এরপর কবি আলী ছায়েদ সহ অন্যান্য অতিথিদেরকে সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রহীন যুদ্ধের ম্যানিফেস্টো গ্রন্থর মোড়ক উন্মোচন করেন প্রফেসর ড. শাহনাজ হুসনে জাহান লীনা।
মোড়ক উন্মোচন শেষে বইটি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা এবং বইটিতে প্রকাশিত কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি করেন ঢাকা নিবাসী দিনাজপুরের কবি শাজাহান মোহাম্মদ, নীলফামারীর কবি রাজ্জাক দুলাল, রানীরবন্দরের কবি হোসাইন মোহাম্মদ আনোয়ার , সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দিনাজপুর এর সভাপতি সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু, দিনাজপুর লেখক ফোরামের সহ-সভাপতি বাসব রায়, সহ-সাধারণ সম্পাদক পুষ্পিতা রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী মিয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পপি হাঁসদাক, গবেষণা সম্পাদক শেখ জহিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মামুনুর রহমান জুয়েল, প্রকাশনা সম্পাদক কাওকাবুননেছা, আইন সম্পাদক এডভোকেট রাবেয়া খাতুন রানু, কার্যনির্বাহী সদস্য ওয়াসিম আহমেদ শান্ত, রীতা হেমব্রম, প্রশান্ত কুমার রায়, মকিদ হায়দার শিপন, প্রবীণ কবি ফাতেমা বেগম, কবি ও সমালোচক আযাদ কালাম, কবি ও ছড়াকার বিধান দত্ত, কবি ও গবেষক চাষা হাবিব, কবি ও আলোচক মাসুদ মোস্তাফিজ, শিক্ষক ও লেখক শাহজাহান সাজু, টাঙ্গন প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী অজয় কুমার রায়, কবি অনন্য আমিনুল, কবি মজেল উদ্দিন, কবি মাহবুব আলম, শ্যামলী মুরমু, শবনম মুস্তাকিন, বিপ্লব চন্দ্র রায়, সজীব চন্দ্র রায়, জাহিন, তাসলিমা বেগম, মধুবন্তী, উচ্ছল সাংবাদিক মোঃ লতিফুর রহমান, ভুবন সেন, শিমুল, সুবীর চক্রবর্তী, সাব্বির হোসেন প্রমুখ।
আলোচনাকালে প্রধান অতিথি শাহনাজ হুসনে জাহান মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটিকে একটি অনন্য আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখানে লেখক এর বই থেকে কবিরা কবিতা পাঠ করেছেন, আলোচনা, সমালোচনা,পর্যালোচনা করেছেন। এ ধরনের মুক্ত আলোচনার পরিবেশ সবখানে থাকা দরকার। এখানে মুক্ত আলোচনায় লেখকের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আবার লেখককে না না ভাবে উৎসাহিতও করা হয়েছে। এ রকম মুক্ত আলোচনা আমরা যত করতে পারব ততই আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নত হবে, সমৃদ্ধ হবে। এ ধরনের আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা শুধু বই না, আমাদের রাষ্ট্র, সংস্কৃতির শব্দগুলোকে নিয়েও আমরা আমাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে পারবো।
তিনি ব্যক্তি জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার মা আমাকে আড়াই বছর বয়স থেকে কবিতা আবৃত্তি শিখিয়েছেন। এই রকম সৃজনশীল চর্চা আমাদের সকল শিশুর মধ্যে হোয়াল দরকার।
ড. শাহনাজ হুসনে জাহান লীনা কবিদের মননশীলতা প্রসঙ্গে বলেন, কবিরা যেভাবে উপলব্ধি করেন, যেভাবে নিজেকে বুঝতে পারেন,ও শব্দ কি অনুভব করতে পারেন, তিনি সেভাবেই লিখে থাকেন, ভাব প্রকাশ করেন। তার এই ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা আমরা দিতে চাই । এই ভাব প্রকাশই হলো তার কবিতা।
ড. শাহনাজ হুসনে জাহান আরো বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাঠকের সাথে লেখকের দেখা নাও হতে পারে। কিন্তু একজন পাঠক কবিতা ও শব্দ দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারেন এবং তিনিও যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভূমিকা নিতে পারেন।
অস্ত্রহীন যুদ্ধের ম্যানিফেস্টো' কাব্যগ্রন্থ লেখার জন্য তিনি লেখক আলী ছায়েদকে ধন্যবাদ জানান এবং অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সাহিত্য সবসময়ই অস্ত্রহীন যুদ্ধের ম্যানিফেস্টো' হিসেবে কাজ করে। সাহিত্য বড় বড় বিপ্লব করে ফেলতে পারে এবং করেও আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, নশ্বর পৃথিবীতে সবকিছুই অবিনশ্বর। তাই পৃথিবীকে আমরা যতদিন যত মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পারবো ততই পৃথিবী সুন্দর হয়ে উঠবে । আমাদেরকে সেই লক্ষ্যই কাজ করে যাওয়া উচিত।
তিনি আরো বলেন, আজকে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের দামামা চলছে। কিন্তু আমরা অস্ত্রযুদ্ধ চাই না। আমরা চাই প্রেম-ভালোবাসার যুদ্ধ। যে যুদ্ধে মানবাধিকারের জাগরণ হবে, সেই যুদ্ধ আমরা চাই । আমি বিশ্বাস করি অস্ত্রহীন যুদ্ধের ম্যানিফেস্টো'র মধ্য দিয়ে সে বার্তাই বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে যাবে।
গ্রন্থটির লেখক কবি ও গবেষক আলী ছায়েদ তার বক্তব্যে কারো কারো সমালোচনার জবাবে বলেন, আমরা যে যাই লিখি না কেন, সেটি আমাদের সন্তানের মত। আমিও যা লিখেছি সেটা আমার সন্তানের মত। আমার সন্তান কানা হলেও আমার, খোঁড়া হলেও আমার। আমি যে কবিতা লিখেছি, তার মধ্য দিয়ে আমার মনোভাব প্রকাশের চেষ্টা করেছি এবং এটাই আমার লেখা,পি এটাই আমার কবিতা।
আলী ছায়েদ তার কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা এবং গ্রন্থ থেকে কবিতা পাঠ করার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে উত্তর বাংলা সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, কবিতা দেখলে ভয় পাই। কারণ কবিতা ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারি না। অনেকবার কবিতা লেখার চেষ্টা করেছি পারিনি। তারপরও কবিতাকে ভালবাসি, সাহিত্যকে অনুভবের চেষ্টা করি, সে কারণে এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলোতে আমি সংযুক্ত থাকারও চেষ্টা করি। আজকের এই আয়োজনটি একটি অনন্য আয়োজন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা কবিতা সম্পর্কে, সাহিত্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। এই জ্ঞান আমাদেরকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে।
দিনাজপুর প্রেসক্লাব সভাপতি স্বরূপ বকশী বাচ্চু বলেন, প্রেসক্লাবের পক্ষ হতে সাহিত্য অনুষ্ঠান, প্রকাশনা অনুষ্ঠানকে উৎসাহিত করা হয়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে সাহিত্য সৃজনশীলতাকে তৈরি করে। আর সৃজনশীলতার মধ্য দিয়েই মানুষ মানবিক হয়ে ওঠে। তাই আমরা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
প্রফেসর জলিল আহমেদ বলেন, কবিতার বই প্রকাশ সব লেখক এর জন্যই একটি আনন্দের বিষয়। বই ও কবিতা নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা হলো সেটাও আনন্দের। একটি বইয়ের ভিতরে যা থাকে সেটি লেখক ও পাঠকের জন্য সুস্বাদু খাদ্য। আমি বিশ্বাস করি সব কবিতাই সুস্বাদু খাদ্য এবং কবিতাগুলো যারা লেখেন, তার মধ্যে অনেক সুস্বাদু খাদ্য পাওয়া যাবে যদি পাঠক সেগুলো পড়েন।
প্রফেসর মোজাম্মেল বিশ্বাস বলেন, কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থেকে কবিতা তৈরি হয়। কবিতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে। সে কারণেই এই বইয়ের নাম অস্ত্রহীন যুদ্ধের ম্যানিফেস্টো। এ বই যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলবে সেটাই আমি বিশ্বাস করতে চাই।
অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে প্রধান অতিথি ও লেখক কে ক্রেস্ট দ্বারা সম্মানিত করা হয়। ক্রেস্ট তুলে দেন দিনাজপুর লেখক ফোরামের সভাপতি আজহারুল আজাদ জুয়েল, সহ-সাধারণ সম্পাদক তুষার শুভ্র বসাক, সদস্য রীতা হেমব্রম।
-:সম্পাদকীয় কার্যালয়:-
উপশহর, দিনাজপুর-৫২০০।
ই-মেইল ঠিকানা: pallibartadnj@gmail.com
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ: ০১৮১৬ ৯৪৫৭৪৪
© স্বত্ব সংরক্ষিত পল্লীবার্তা© ২০২৫