প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ২৭, ২০২৬, ৩:৫৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২৬, ২০২৬, ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ

যথাযোগ্য মর্যাদা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তীতে সকাল ১০.৩০ টায় প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অংশগ্রহণে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর সকাল ১০.৫০টায় হাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর শহীদগণের স্মৃতির প্রতি পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান।
ক্রমান্বয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন ডিন কাউন্সিল, হল সুপার কাউন্সিল, ইউট্যাব, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদ, জিয়া পরিষদ, সাদা দল, অফিসার্স ফোরাম, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদ, জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদ, হাবিপ্রবি স্কুলসহ বিভিন্ন সংগঠন।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন শহীদ নুর হোসেন হলের হল সুপার প্রফেসর ড. মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বাণী বিতরণ ও পাঠ করা হয়। বাণী পাঠ করেন প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন। বাণীতে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালিন মেজর জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম কে যার সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অসীম সাহসিকতা ও বীরোচিত রণকৌশলের মাধ্যমে দিশেহারা ও দ্বিধাগ্রস্থ জাতি পশ্চিম পাকিস্থানি সশস্ত্র হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে¿ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এছাড়াও তিনি শ্রদ্ধা জানান সেক্টর কমান্ডার, খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতিকবৃন্দের প্রতি।
[caption id="attachment_2527" align="alignnone" width="1024"]
হাবিপ্রবিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন[/caption]
তিনি আরও বলেন, মহান স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পরও আমাদের গণতন্ত্র বহুবার হোঁচট খেয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এক যুগেরও বেশী সময় ধরে দেশের জনগণের উপর জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন ও শোষণ শুরু করে ফলশ্রুতিতে, এদেশের আপামর জনতা একাত্তরে যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র পাক্ হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের পরাজিত করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল ঠিক একই চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ’২৪ এর জুলাই-আগষ্ট -এ নিরস্ত্র শান্তিকামী ছাত্র-জনতা গড়ে তোলেন গণআন্দোলন। শহিদ হন আবু সাঈদ-মুগ্ধ-রাহুলসহ শত শত তরতাজা শিশু-কিশোর, ছাত্র-যুবক-শ্রমিক। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা চিরতরে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ববরণ করেন এবং স্বৈরাচারী-ফ্যাসিষ্ট সরকারকে হটিয়ে আমরা ’২৪ এর ৫ আগষ্ট অর্জন করি দ্বিতীয় বিজয়।
ভিসি আরও বলেন,দেশের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগনের বিপুল ভোটে নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের আপামর জনগনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নির্মূল করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাই দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যানে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের এই অগ্রযাত্রায় সরকারের প্রশাসনিক. অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বিভিন্ন পরিকপনা ও কর্মসূচী বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে উচ্চ শিক্ষার এই পবিত্র প্রাঙ্গনের সার্বিক উন্নয়ন এবং দেশের স্বার্থে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিঃস্বার্থ এবং আন্তরিকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহবান জানান।
বাণী পাঠ শেষে টিএসসি প্রাঙ্গণে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বাদ জোহর শহিদগণের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।