দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতির নামে ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা, শিক্ষার্থীকে পদত্যাগে বাধ্য করার হুমকি, দলবদ্ধ হামলা, নারী শিক্ষার্থীর ওপর আক্রমণের চেষ্টা এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে মেডিসিন ক্লাবের সদস্যরা।
আজ ১ মার্চ রবিবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মেডিসিন ক্লাব দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি নাহিদ হাসান। এ সময় আবুল বাশার সজিব, আবিদ আহমেদ ও রুকাইয়া তামান্না উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে'যেখানে মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চা হওয়ার কথা'সেখানে পরিকল্পিত সন্ত্রাস, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এমন ঘটনা ঘটনা আমাদের নিরাপত্তাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বিগত কয়েকদিন যাবৎ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্রদলের আহ্বায়ক ডাঃ নূর জামান সরকার আমাকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য ধারাবাহিক চাপ প্রয়োগ করেন। এ কাজে সহকারী হোস্টেল সুপার, প্রভাষক ডা. রাসেল তার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং নতুন কমিটি গঠনের জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ তারিখ রাত ১১টার পর কলেজ কতৃপক্ষের তত্বাবধানে সহকারী হোস্টেল সুপার প্রভাষক ডাঃ হাবিবুল্লাহ রাসেল, ছাত্রদলের আহ্বায়ক ডা. নুরুজ্জামান সরকার ওরফে নূর এবং সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক পাভেল তাদের অনুসারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নাহিদ হাসানের ওপর বর¦রোচিত হামলা চালায়।
একা একজন শিক্ষার্থীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দলবদ্ধভাবে বেধড়ক মারধর করা হয়। সাহায্যের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, অথচ থামানোর বদলে পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়। এই পাশবিকতার মধ্যেও মানবিকতার এক ঝলক দেখা যায়। আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন একজন নারী চিকিৎসক শিক্ষার্থী ডাঃ রুকাইয়া তামান্না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাকেও আক্রমণের হুমকির মুখে পড়তে হয়। যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই তখন অপরাধ। ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করতে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। সত্যকে মুছে ফেলার এক নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। এসব কিছু ঘটে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদের সামনেই যা শিক্ষার্থীদের মনে আরও গভীর ভয় ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়।
এই হামলায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ডা. নূর এবং সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক পাভেলের নেতৃত্বে ২৫তম ব্যাচের জীবন, ৩১তম ব্যাচের হাবিব, ৩২তম ব্যাচের, ইফতি, মিশুক ও রিয়াদ এবং ৩৩তম ব্যাচের জাহিন, আলিফ, আদনান সানজিদ সরাসরি অংশগ্রহণ করে।
হামলার উন্মত্ততা এখানেই থেমে থাকেনি। নাহিদের এক সিনিয়র (সজীব, ২৭ তম ব্যাচ) না পেয়ে তার কক্ষের তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় মূল্যবান বই, পরীক্ষার এডমিট কার্ড' যেগুলো একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চুরি করা হয় একটি নতুন আইপ্যাড ডিভাইস ও পরীক্ষার ফরম ফিল-আপের ৫০০০/- টাকা। একইসঙ্গে নাহিদের কক্ষেও ঢুকে তার মেডিকেলের সব বই আগুনে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। জ্ঞানকে পুড়িয়ে উল্লাস'এর চেয়ে ভয়াবহ প্রতীক আর কী হতে পারে
মধ্যযুগীয় কায়দায় মঙ্গল বাহিনীর ন্যায় এই বিবেকবজিত ও নিকৃষ্ট কর্মকা-ে ৩২, ৩৩ ও ৩৪তম ব্যাচের ডাঃ নূরের অনুসারী কিছু উগ্র ও বিশৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এদের মধ্যে ৩৩তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী'শাওন ও রাশেদের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই ঘটনা শুধু একজন নাহিদ হাসানের ওপর হামলা নয়' এটি ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা, এটি শিক্ষাঙ্গনে মানবিকতা হত্যা, এটি ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের বিবেককে পিষে ফেলার নগ্ন প্রচেষ্টা। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনোই সন্ত্রাসের আশ্রয়স্থল হতে পারে না। আজ যদি এই অন্যায়ের বিচার না হয়, তবে কাল আর কেউ নিরাপদ থাকবে না। মেডিকেলে কি আরেকটি আবরার ফাহাদের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে থামবে এইসব সন্ত্রাসীরা! কেননা নাহিদকে হত্যা চেষ্টা করেও সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে ও কলেজে স্বপদে আছে ডাঃ হাবিবুল্লাহ রাসেল স্যার। আজ নাহিদ বেঁচে গেছে বিদায় আরেকটি আবরার ফাহাদ ঘটেনি। তাই বলে কি নাহিদ বিচার পাবে না!? প্রশ্ন রাখেন তিনি।
ই-মেইল ঠিকানা: pallibartadnj@gmail.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত পল্লীবার্তা© ২০২৫