বিদেশি সহায়তা কমে গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২২ মিলিয়নের বেশি মানুষের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু হতে পারে। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ৫৪ লাখ। এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে এসব আশঙ্কার তথ্য উঠে এসেছে।
‘দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, গত ২০ বছরে সংক্রামক রোগে শিশু মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে কমেছে। এর প্রধান কারণ ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মতো দাতারা হঠাৎ তহবিল কমিয়ে দিলে এই অগ্রগতির অনেকটাই ভেস্তে যেতে পারে।
গবেষক দলটি ২০০২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গ্রহীতা দেশগুলোতে সহায়তার সঙ্গে মৃত্যুর হারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছেন। এরপর তারা তিনটি পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ ফলাফল অনুমান করেছেন: বর্তমান অবস্থা বজায় থাকা, সামান্য হ্রাস এবং ব্যাপক হ্রাস। ব্যাপক হ্রাসের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয়েছে যে, চলতি দশকের শেষ নাগাদ সহায়তার পরিমাণ ২০২৫ সালের স্তরের প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যদি সহায়তার পরিমাণ ব্যাপক হারে কমে যায়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২২ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষ মারা যেতে পারে। এর মধ্যে ৫৪ লাখই হবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। আর যদি সহায়তার পরিমাণ সামান্য কমে, তবে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াবে ৯৪ লাখে, যার মধ্যে ২৫ লাখ হবে শিশু।
আইএসগ্লোবালের প্রধান লেখক অধ্যাপক ডেভিড রাসেলা জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সামান্য হ্রাসের বিষয়টিই বেশি বিশ্বাসযোগ্য। তবে বেশ কয়েকটি দেশে ডানপন্থী দলগুলোর প্রভাব বাড়ার কারণে চরম পরিস্থিতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। উদাহরণস্বরূপ, রিফর্ম ইউকে ব্রিটেনের সহায়তা বাজেট আরও ৯০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেনসহ বেশ কয়েকটি বড় দাতা দেশ ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে সহায়তা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা ব্যয় ৬৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৩২ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে এনেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে ২০২৮ সালের মধ্যে সহায়তা জিডিপির ০.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৩ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা করছে।
গবেষকদের মতে, অতীতে বিদেশি সহায়তার কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ৩৯ শতাংশ কমেছিল। বিশেষ করে এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া এবং অপুষ্টিজনিত রোগের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত প্রবল।
ই-মেইল ঠিকানা: pallibartadnj@gmail.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত পল্লীবার্তা© ২০২৫