Pallibarta.com | ৪০ বছর ব্রিজের নিচে বাস করা আলেয়া পাচ্ছেন সরকারি ঘর - Pallibarta.com

বুধবার, ১৮ মে ২০২২

৪০ বছর ব্রিজের নিচে বাস করা আলেয়া পাচ্ছেন সরকারি ঘর

৪০ বছর ব্রিজের নিচে বাস করা আলেয়া পাচ্ছেন সরকারি ঘর-pallibarta পল্লিবার্তা

বরগুনা পৌরশহরের মাছ বাজারে পশ্চিম ব্রিজের নিচে কোণায় খুপড়ি ঘরে বাস করেন আলেয়া বেগম। ৪০ বছর ধরে এখানেই বাস করেন তিনি। এখানেই জন্ম হয়েছে তার ৯ সন্তানের। তবে কেউই বাঁচেনি। আলেয়ার বয়স এখন ৭০।

জীবনের প্রায় শেষ সময়ে এসে যেন আলো জ্বললো আলেয়ার জীবনে। বরগুনার খাজুরতলা এলাকায় আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার নামে।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সদর উপজেলার খাজুরতলায় ৫০টি জমিসহ ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন। জেলার সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে ভিক্ষুক, স্বামী পরিত্যক্তা, শারীরিকভাবে অক্ষম ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিসহ হিন্দু পরিবার।

বৃদ্ধা আলেয়া বেগমের গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মনসাতলী এলাকায়। তার শ্বশুরবাড়িও ছিল একই এলাকায়।

৪১ বছর আগে স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর সংসারে অভাব অনটনের কারণে বরগুনা শহরে পাড়ি জমান আলেয়া। তখন থেকেই শুরু হয় তার আশ্রয়হীন জীবন। প্রথমে বরগুনার মাছ বাজার, সবজি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে রাত্রিযাপন করার পর ভাড়ানী খালের বাজার ব্রিজের নিচে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। বাজারের এক দিনমজুরের সঙ্গে ফের বিয়ে হয় আলেয়ার। স্বামীর ভিটে মাটি নেই, নিজের বাপের বাড়িতে ঠাঁই নেই। বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ওই ব্রিজের নিচে।

সেই খুপড়ি ঘরেই তিনি জন্ম দেন ৮ ছেলে ও ১ মেয়ের। তবে সন্তানদের কেউই বেঁচে নেই। জন্মের পরই তাদের মৃত্যু হয়। একযুগ আগে স্বামীও আলেয়াকে ফেলে নিরুদ্দেশ হন। ভিক্ষা করে জীবন চলে তার। ৪০ বছরেও নিজের ঘর জোটেনি ভূমিহীন আলেয়ার।

আলেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাপ মায়ের অভাবের সংসারে বড় হইছি। বিয়ার পর স্বামীও হালাইয়া থুইয়া গেছে। জীবনেও কহনো ঈদের উপহার পাইনাই। তয় এবার আমার লইয়া সবচেয়ে দামি ঈদ উপহার দিলো সরকার। বয়স ৭০ ছাড়াইছে, বাঁচমুও বা আর কয়দিন। তবুও এহন যদি বাকিডা সময় মোর শান্তিতে রাহে আল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, মোর ৪০ বছর কাডাইছি ব্রিজের তলে, খালের প্যাডে দিছি নয়ডা গুরাগারা। এতকিছুর পর হপায় একটা মাথা গোঁজার ঠাই পাইলাম। শেখ হাসিনা আমার মা, হে আমারে ঘর দেছে। তার লাইগ্গা খোদার দরবারে প্রাণ ভইরা দোয়া করমু।

বরগুনার ৬ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২৩২টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭৯৩টি এবং তৃতীয় পর্যায়ে ৭২৫টি ঘরের মধ্যে ৪১১টি ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ব্রিজের নিচে থাকা আলেয়ার বিষয়টি নজরে এলে আমরা তাকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় আনি। আলেয়ার জন্য খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮৩ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সোমবার তার জমিসহ ঘরটি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

 

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১