Pallibarta.com | সুগন্ধা দুুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ - Pallibarta.com

সোমবার, ১৬ মে ২০২২

সুগন্ধা দুুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

সুগন্ধা দুুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া। গতকাল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য সচিব এসব তথ্য জানান।

সুগন্ধা দুুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

এর আগে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহতদের খোঁজখবর নেন স্বাস্থ্য সচিব। তিনি সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, আহতদের মধ্যে ৩২ জনের চিকিৎসা চলছে বরিশালে। সাত সদস্যের চিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছে সেখানে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিকিৎসার খরচ বহন করা হচ্ছে। মরদেহ বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থাও হাসপাতালের পক্ষ থেকে করা হবে।

সুগন্ধা দুুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

অগ্নিদগ্ধ হয়ে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭০ জন। ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ১৬ জনকে। আহত হয়েছে শতাধিক। বরিশাল প্রতিনিধি জানান, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সাত চিকিৎসক লঞ্চে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসা দেয়া শুরু করেছেন। গতকাল সকাল ১০টা থেকে তারা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা সেবা কার্যক্রম শুরু করেছেন। হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় লঞ্চে গুরুতর দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ঢাকা থেকে এ মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা সাত সদস্যের মেডিকেল টিমের প্রধান নুরুল আলম বলেন, আমরা আজ রোগীদের পর্যবেক্ষণ করব। প্রয়োজন হলে আজই জরুরি অপারেশন করব। এ কারণে অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এখানেই প্লাস্টিক সার্জারি সম্ভব। যাদেরটা সম্ভব নয়, তাদের ঢাকায় নেয়া হবে।অগ্নিকাণ্ডে যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে তাদের কেউ শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গতকাল শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক সামন্ত লাল সেন জানান, রাত ৩টায় এ ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে আরো কিছু সময় লেগেছে। এ সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ফ্লুইড পেয়েছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর ওপর পরবর্তী চিকিৎসা নির্ভর করে। আমি বলব সবাই ক্রিটিক্যাল। কাউকেই শঙ্কামুক্ত বলব না।

জানা গেছে, ৪১ জনের মধ্যে চারজনের মরদেহ নিয়ে গেছেন স্বজনরা। পরে আরো পাঁজজনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৩২টি মরদেহ বরগুনা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে দুজনের মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। বাকি ৩০ জনের ডিএনএ সংরক্ষণ করা হয়েছে। দাফনের আগে আরো সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করেন স্বজনরা।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বরগুনার সার্কিট হাউজ মাঠে ৩০ জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পাঁচজনকে শনাক্ত করেন স্বজনরা। দাফনের জন্য ২৫টি মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যওয়া হয়। পরে আরো দুজনকে শনাক্ত করেন স্বজনরা। বেলা ১টায় বরগুনার পোটকাখালী গ্রামে খাকদোন নদীর পাড়ে নিহত ২৩ জনের দাফন সম্পন্ন হয়। চারজনের মরদেহ আলাদা করা না যাওয়ায় দুটি কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান, পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, ২৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী লঞ্চটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী শুক্রবার সকাল ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। র্যাব, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১