Pallibarta.com | সিলেটে টিকার জন্য অপেক্ষা

বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সিলেটে টিকার জন্য অপেক্ষা

সিলেট নগরে ৪২ হাজার মানুষ নিবন্ধন করে টিকার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। কখন আসবে মেসেজ, দেবেন টিকা। কেউ ২০ দিন ধরে অপেক্ষা করছেন। এরপরও মোবাইলে পৌঁছেনি কাঙ্ক্ষিত সেই মেসেজ। হতাশ হয়ে ছুটে যাচ্ছেন টিকা সেন্টারে। মেসেজ না থাকায় ঢুকতে পারছেন না। করোনার প্রথম পর্যায়ে সিলেটে টিকা গ্রহণে তেমন আগ্রহ ছিল না। এ কারণে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ফেরত এসেছে টিকার চালান।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত সিলেট। হাসপাতালে জায়গা নেই। অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে মানুষ। আইসিইউ সংকট তীব্র। এমন অবস্থায় জীবন বাঁচাতে টিকা গ্রহণে ছুটছে মানুষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাকসিনেটেড ছাড়া সিলেটে করোনার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব নয়।

এ কারণে টিকায় আরো বেশি আগ্রহী সিলেটের মানুষ। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে টিকা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেছে মানুষ। রেজিস্ট্রেশন করে টিকার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এই অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

গতকাল দুপুরে মেসেজ পেয়ে সিলেটের বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে স্ত্রীকে নিয়ে টিকা নিতে গিয়েছিলেন আইনজীবী ও সাংবাদিক আব্দুল মুকিত অপি। তিনি বেলা পৌনে ১টায় কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন টিকা শেষ। পরে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন- ‘মেসেজ পেয়ে বেলা পৌনে ১টায় পুলিশ হাসপাতালে গেলে জানানো হয় ভ্যাকসিন শেষ! সবাই ফিরে যাচ্ছেন। তাহলে কিসের এই মেসেজ, কিসের এই সিস্টেম।’ অপি জানান, ‘রাত ৩টার সময় মোবাইল ফোনে মেসেজ গিয়েছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেসেজ পেয়ে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। এখন টিকা পাবেন কিনা- এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।’ সংশ্লিষ্টদের মতে, সিলেট নগরের দুটি কেন্দ্রে গত এক মাসে প্রায় ৪০-৪৫ হাজার মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে। নগরের দুটি টিকা দান কেন্দ্র সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে টিকা দেয়া হচ্ছে। এ দুটি কেন্দ্রে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে টিকা দেয়া হচ্ছে।

নগরে নিয়মিত টিকাদানের জন্য আরো ৯টি সেন্টার চালুর প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর অনুমোদনের আগেই গণটিকা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। ফলে সিলেট নগরীতে টিকা কার্যক্রমের সেন্টার বাড়ানো সম্ভব হয়নি। আর দুটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া নিয়মের কারণে অতিরিক্ত মানুষকে টিকা দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে অতিরিক্ত মানুষ টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করলেও তাদের টিকা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে টিকা দেয়া হচ্ছে। নিবন্ধনকারীরা মেসেজ ছাড়া টিকা গ্রহণ করতে পারবেন কিনা- সে ব্যাপারেও এখনো কোনো সিদ্বান্তে পৌঁছা সম্ভব হয়নি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিবন্ধনকারীদের দ্রুততম সময়ে কীভাবে টিকা দেয়া যায় সে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে অনুমতি পেলে হয়তো মেসেজ ছাড়াই তাদের টিকা দেয়া হতে পারে। তিনি জানান, ৭ই আগস্ট সিলেটে মাত্র একদিনের জন্য টিকা কার্যক্রম চলবে। ওই দিন নগর এলাকার ২৭নং ওয়ার্ডের ৮১টি কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার ডোজ টিকা দেয়া হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৯০০ ব্যক্তি গণটিকার আওতায় আসবেন। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিয়েই টিকা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হবে। টিকা কার্যক্রমকে সফল করতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। তিনি জানান, সিলেটে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রয়েছেন ১৪ হাজার মানুষ। তাদেরকে আলাদা সেন্টার করে টিকা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এদিকে, একদিনের টিকা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সিলেটে টিকার কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, সিলেট জেলার সিটি করপোরেশন ও উপজেলাগুলো মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি টিকাকেন্দ্র করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে। সিলেট নগরীতে মডার্নার টিকার কোনো সংকট নেই। আজ আরো এক লাখ টিকার একটি চালান সিলেটে আসছে। এতে দেখা গেছে- গণটিকায় ১৫ হাজার ডোজ দেয়া হবে।

আর অপেক্ষায় রয়েছেন ৪২ হাজার মানুষ। ফলে পর্যাপ্তসংখ্যক টিকা হাতে থাকায় যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের টিকা প্রদানে কোনো সমস্যা হবে না। সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মোজয় দত্ত জানিয়েছেন, টিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। টিকা গ্রহীতার সংখ্যা বাড়ছে। এতে করে টিকা গ্রহণেও চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলেটে যাতে মানুষ অপেক্ষায় না থাকে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া, গণটিকা কার্যক্রম একদিন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১