এক্সক্লুসিভঢাকাতথ্য ও প্রযুক্তিফিচারবিজ্ঞান-প্রযুক্তিলাইফস্টাইলসাধারণ ক্যাটাগরিস্বাস্থ্য

শ্বাস-প্রশ্বাসের আদ্যোপান্ত

শ্বসন বা রেস্পিরেশন, মানব শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশল ।  আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের  শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে অক্সিজেনের যোগান দিচ্ছি  এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করছি।  আমরা কি জানি, আমাদের শরীরে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ এবং অক্সিজেনের সরবরাহে যে কৌশলে কাজ করে, সে সম্পর্কে? চলুন জেনে নেয়া যাক। দেহের প্রত্যেক কোষ থেকে শক্তি উৎপাদনে অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। এ কাজটা করে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে তৈরি হয় কার্বন-ডাই-অক্সাইড। কার্বন ডাই-অক্সাইড দেহের জন্য ক্ষতিকর। বাতাস থেকে অক্সিজেন নেওয়া এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া রেস্পিরেশন। এখন আসা যাক, মানব শরীরে এই শ্বসন প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয়। আমরা জানি,  মানুষের শরীরের সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ আমাদের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দ্বারা হয়ে থাকে। এটাকে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমও বলা হয়। সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম থেকেই আমাদের শ্বসন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।বাতাস থেকে অক্সিজেন নেওয়া এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়া শ্বসন প্রক্রিয়ায় মূল কাজ। ডায়াফ্রাম সংকোচনের নির্দেশ শ্বসন কেন্দ্র থেকে সংঘটিত হওয়ায়,  ফুসফুস প্রসারিত হয়ে শ্বাসনালীতে বাতাস টেনে নিয়ে আসে। বাতাসে থাকা অক্সিজেন অ্যালভিওলাই এর মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় মানুষের শরীরে রক্তের সাথে মিলিত হয়।  অন্যদিকে রক্তস্রোতে থাকা অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড এর ঘনত্বের কারণে তা বায়ু মাধ্যমে চলে আসে। আমরা জানি, আমাদের আশপাশের বায়ুতে অক্সিজেনের ঘনত্ব 21 শতাংশ যেখানে কার্বন ডাই অক্সাইড এর ঘনত্ব 0.01%। তাই খুব সহজেই ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ু থেকে অক্সিজেন রক্ত মাধ্যমে এবং রক্তে থাকা অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্বের কারণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্ত থেকে বায়ু মাধ্যমে চলে আসে এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমরা অক্সিজেনকে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে পুরো শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ নিশ্চিত করি। এবং শরীরে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড এর অধিক ঘনত্বের কারণে, কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে সঞ্চালনের মাধ্যমে আমরা একটি বিষাক্ত পদার্থ থেকে মুক্তি পাই। আর এই প্রক্রিয়ার মূল কৌশল হচ্ছে- ব্যাপন।  আমরা জানি, ব্যাপন হচ্ছে অধিক ঘনত্বের স্থান হতে কণার  স্বতঃস্ফূর্তভাবে কম ঘনত্বের স্থানে সঞ্চারিত হওয়া। আমাদের শ্বসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, পাশাপাশি আরেকটি বিষয় জেনে রাখি। শ্বসন দুই প্রকারের হয়ে থাকে। 1 সবাত শ্বসন ও 2 অবাত শ্বসন। অক্সিজেনের উপস্থিতিতে যে শ্বসন, তাকে বলি সবাত শ্বসন।  আর অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন তাকে বলা হয় অবাত শ্বসন। সবাত হলো শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এর জোগান থাকতে হয়। অন্যদিকে অবাত শ্বসন হলো কখনো যদি আমাদের শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, তখনই কেবল আমাদের শরীরে প্রক্রিয়াটি সংঘটিত হয়। আর এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরে ল্যাকটিক এসিড তৈরী হয়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আমরা আগেই বলে রেখেছি, অবাত শ্বসন আমাদের শরীরের কোন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। যখনই আমরা অনেক পরিশ্রম করি এবং অনেক দৌড়াদৌড়ি করি তখনই কেবল অবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। কিন্তু এটিকে ভালো পদার্থ হিসেবে নিতে পারেনা আমাদের শরীর। এজন্যেই তো আমরা যখন অনেক পরিশ্রম করি, পরদিন সকালবেলা আমাদের শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়।

আহমদ ফুয়াদ, physician.bd@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button