Pallibarta.com | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, ২০১ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, ২০১ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা - Pallibarta.com

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, ২০১ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ধরে বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ সময়ে নানা কারণে আত্মহত্যার পথে পা বাড়িয়েছেন ২০১ জন শিক্ষার্থী। অনেকেই ভুগছেন মানসিক যন্ত্রণায়।

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, সনদ ও ফলনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেই শিক্ষার্থীরা এ ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের বিশেষ কাউন্সিলিং চালুর পরামর্শ মনোবিজ্ঞানীদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব। চলতি বছর তার চাকরিতে প্রবেশের কথা থাকলেও এখনো শেষ হয়নি শিক্ষাজীবন। এখন তার কপালে চিন্তার ভাঁজ।
নাজমুস সাকিব বলেন, পারিপাশ্বিক চাপ এত বেশি হয়ে যাচ্ছে যে ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কিত, অন্যদিকে একাডেমিক বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় আছি। করোনা পরিস্থিতি আমাদের একটা লম্বা সময় ধরে ভোগাবে।

শুধু সাকিবই নন, অতিমারি কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ঘরবন্দি শিক্ষার্থী। এই সময়ে নিঃসঙ্গতা, মানসিক বিষণ্ণতা, আর্থিক ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বেকারত্বের কারণে অনেকেই ভুগছে ভয়াবহ মানসিক সমস্যায়।

এক শিক্ষার্থী বলেন, অনলাইনে কথা বলা আর সরাসরি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার মধ্যে বড় একটা তফাত আছে। মানসিকভাবে আমরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি সবাই।
আত্মহত্যার পথেও পা বাড়াচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের হিসাব বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর থেকে চলতি আগস্ট পর্যন্ত ১৭ মাসে মোট ২০১ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীই বেশি, সংখ্যায় ৯৮ জন। কলেজ পড়ুয়া ৩৮ জন, মাদ্রাসায় পড়ুয়া ১২ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামাজিকীকরণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না-যার ফলে শিক্ষার্থীরা আত্মঘাতী হচ্ছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগ এবং উপানুষ্ঠানিক ও জীবনমুখী শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এখন করোনা চলছে, আরো অনেক সমস্যা আছে যেমন বন্যা, খরা ও ভূমিকম্প বিভিন্ন কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকতে পারে। তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকে সেক্ষেত্রে আমরা শিক্ষকরা কি করতে পারি, সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মানসিকতা যদি বিপদগামী না হয়, তারা যেন সঠিক পথে থাকে তার জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দদায়ক করতে হবে।
মানসিক বিষণ্ণতা রোধের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ কাউন্সিলিং চালুর পরামর্শ মনোবিজ্ঞানীদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম হোসেন বলেন, এ সময় আমরা যদি ভার্চুয়ালি হলেও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি তাহলে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা উপায় হতে পারে।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০