Pallibarta.com | শান্তিতে নোবেল জয়ে এগিয়ে যারা - Pallibarta.com

বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

শান্তিতে নোবেল জয়ে এগিয়ে যারা

শান্তিতে নোবেল জয়ে এগিয়ে যারা

শান্তিতে নোবেল জয়ে এগিয়ে যারা।
এবারের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৮ অক্টোবর) নরওয়ের অসলোতে শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার কার হাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে ভবিষ্যদ্বাণীও শুরু হয়েছে। মানবজাতির জন্য সবচেয়ে উপকারি কিংবা কল্যাণকর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় শান্তিতে নোবেল। ১৮৯৫ সালে আলফ্রেড নোবেল প্রথম যে ছয়টি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তার মধ্যে শান্তিতে নোবেলও রয়েছে।-খবর দ্য টাইমের

গেল বছর এই পুরস্কার পেয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা। সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ডব্লিউএফপিকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

করোনা মহামারি, রাজনৈতিক সংঘাত ও জলবায়ু সংকটে উত্তাল আরেকটি বছর পার করতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। এ বছরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ৩২৯ প্রার্থী রয়েছেন। নরওয়ের আইনপ্রণেতাদের ওপর জরিপ চালিয়ে এবার পুরস্কারের তালিকায় জলবায়ু অ্যাকটিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গ, রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী সেভেটলানা টিখানোভসকায়া ও অ্যালেক্সেই নাভালনিকে এগিয়ে রেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তবে পুরস্কারের জন্য প্রার্থীদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নোবেল কমিটির পছন্দ নিয়ে আগেভাগেই ধারণা করা কঠিন। তারা জনপ্রিয় প্রবণতাগুলোকে খুব একটা অনুসরণ করে বলে মনে হচ্ছে না। তবুও এ সম্মানজনক পুরস্কারে এগিয়ে থাকাদের মধ্যে যারা আছেন, তারা হলেন:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

চীনের উহানে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় দুবছর পার হতে চলছে। এরপর থেকে আমাদের নিত্যদিনের জীবনকে নতুন রূপ দিয়ে যাচ্ছে আর রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায় প্রাধান্য বিস্তার করছে এই ভাইরাস। করোনার রূপান্তর ও প্রাণঘাতী ধরন বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে যাচ্ছে।

মহামারির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গেল বছর শান্তিতে নোবেল পাওয়ার তালিকায় এগিয়ে ছিল জাতিসংঘের এই সংস্থাটি। কিন্তু পেয়ে গেছে আরেকটি সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।

এ বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হচ্ছে, বিশ্বের সব দেশে করোনার টিকার ন্যায্য ও সমান বণ্টন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম টিকার বিতরণ শুরু করে সংস্থাটি। এরপর ১৪৩টি অংশীদার দেশে তিন কোটি ১০ লাখ ট্কিা সরবরাহ করেছে কোভ্যাক্স কর্মসূচির মাধ্যমে।

অ্যালেক্সেই নাভালনি

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন তিনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার কাজের জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেলের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে। পুতিনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অতীতেও পরিচিতি পেয়েছিলেন নাভালনি। কিন্তু চলতি বছরে তিনি রাজনৈতিক বন্দি হয়েছেন।

২০২০ সালের আগস্টে তাকে নার্ভ এজেন্ট নভিচক প্রয়োগ করা হলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি তাকে এই বিষপ্রয়োগ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। জার্মানির হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে গেল জানুয়ারিতে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

বন্দি নাভালনিকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনে একটানা আটঘণ্টা টেলিভিশন দেখতে বাধ্য করা হয়েছে তাকে। যার প্রতিবাদে রাশিয়াজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতেও পুতিনের সমালোচনায় অটল রয়েছেন তিনি।

গ্রেটা থুনবার্গ

সুইডেনের কিশোরী জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। ২০১৯ সালে টাইম সাময়িকীর পার্সন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয় সে। এরপর থেকে নোবেলজয়ের তালিকায় তাকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ বছরটি তার হতে পারে।

এর আগে পাকিস্তানি শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজায়ী ও কঙ্গোলিজ চিকিৎসক ডেনিস মুকায়েজের নামও তার মতো আলোচনায় ছিল। পরবর্তীতে তারা শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন।

২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক স্কুল জলবায়ু বিক্ষোভ শুরু করে গ্রেটা থুনবার্গ। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রতি ক্রমাগত আহ্বান জানিয়ে আসছে এই কিশোরী। গেল মাসে ইয়োথ৪ জলবায়ু সম্মেলনে ফাঁকা প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপ নিতে গড়িমসির জন্য বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সমালোচনায় সোচ্চার হতে দেখা গেছে তাকে।

এই উত্তাল সময়ে গ্রেটাকে নোবেল দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, নভেম্বরে জাতিসংঘের আসন্ন জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ২৬) অংশগ্রহণকারীদের একটি জোরালো বার্তা দেওয়া: জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

সেভেটলানা টিখানোভসকায়া

নোবেলজয়ী হিসেবে বেলারুশের এই মানবাধিকারকর্মীর ভাগ্য নিয়ে খুব একটা ভবিষ্যদ্বাণী করা যাচ্ছে না। গেল বছর মে মাসে বিরোধীনেতা সের্গেই টিখানোভসকায়াকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন ইউরোপের সর্বশেষ একনায়কখ্যাত প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেনকো। এরপর স্বামী সের্গেইর বদলে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সেভেটলানা। এভাবেই একজন সার্বক্ষণিক মা বিশাল গণআন্দোলনের নেতৃত্বে নেমে যান।

কিন্তু নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগের পরেও নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন লুকাশেনকো। কিন্তু তার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভে বহু রাজনৈতিক কর্মীকে বন্দি ও আহত হয়েছেন। দুই শিশুকে নিয়ে সেভেটলানা টিখানোভসকায়া লিথুনিয়ায় পালিয়ে যান।

এরপর থেকে লুকাশেনকোর ২৬ বছর শাসনের অবসানের দাবিতে লড়াইয়ে নির্বাসিত সরকার কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের নেতৃত্ব দেন এই নারী। এছাড়া স্বামীর মুক্তির দাবিতে তিনি সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

২০২১ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন বাইডেন। এরপর তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেখে যাওয়া একটি বিভক্ত দেশে বৈশ্বিক মহামারির বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে তাকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক ডজন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে আসার সিদ্ধান্তটিও রয়েছে।

২০২০ সালে এই জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ বন্ধ করেন বাইডেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ট্রাম্পের বন্ধ করে দেওয়া তহবিলও ফিরিয়ে দিতে শুরু করেন তিনি।

এছাড়া সম্ভাব্য বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্দোলনকারী সংস্থা রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার্স, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইউএনএইচআরসি।

আরো পড়ুন ...

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১